SIR বিতর্কের মাঝেই বড় পদক্ষেপ রাহুলের! অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চালু করলেন নতুন প্ল্যাটফর্ম

এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা চরম উত্তেজনার মধ্যেই একটি অভিনব রাজনৈতিক পদক্ষেপ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশের সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের প্রতি হওয়া যাবতীয় অন্যায়, অবিচার ও আন্দোলনের নানা অভিযোগ এক জায়গায় তুলে ধরতে পারেন, তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সত্যাগ্রহ’ নামে একটি নতুন ওয়েবসাইটের সূচনা করলেন তিনি।

শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে ‘সত্যাগ্রহ’ ওয়েবসাইটের ঘোষণা করেন রাহুল। ‘সত্যাগ্রহ: সংঘর্ষ জোড়ো, ভারত জোড়ো’ শিরোনামের ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন চলছে। কেউ ছাত্রছাত্রীদের কথা বলছেন, কেউ মহিলাদের কথা বলছেন, কেউ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ করছেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে চাইছিলাম, আন্দোলন সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায় মজুত রাখতে। সেই মতো সত্যাগ্রহ ওয়েবসাইট খুলেছি আপনাদের জন্য।”

কীভাবে কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্ম?
রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ছোট বা বড় অভিযোগ—সে নাম হোক কিংবা সংগঠনের নাম—তা এই ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা করা যাবে। কী নিয়ে আন্দোলন চলছে, তা বিস্তারিত জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, “আমরা যদি আপনাদের কাজে লাগতে পারি, যদি আমাদের সাহায্য চান, আপনাদের সাহায্য করতে পারলে আনন্দিত হব।” এই নতুন পোর্টালটির ঠিকানা রাখা হয়েছে rahulgandhi.in/satyagraha।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও অনুপ্রেরণাতেই যে এই ‘সত্যাগ্রহ’ ওয়েবসাইটের সূচনা করা হয়েছে, তাও এ দিন স্পষ্ট করে দেন রাহুল। তিনি বলেন, “Gen Z, ছাত্রছাত্রী, কৃষক, জনজাতি, মহিলা—প্রত্যেক আন্দোলনের নিজস্ব কাহিনি রয়েছে। কিন্তু একা মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায়শই চাপা পড়ে যায়। সমস্ত কণ্ঠস্বরকে এক মানচিত্রে তুলে ধরার জন্যই এই ওয়েবসাইটের সূচনা।” বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদের ভিতর হোক বা রাজপথে—চিঠি লেখা থেকে শুরু করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঠিক যে সময় রাহুল গান্ধী এই ‘সত্যাগ্রহ’ ওয়েবসাইটের সূচনা করলেন, তার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মুহূর্তে এসআইআর বিতর্কে উত্তাল গোটা দেশ। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে বিরোধীরা যেমন জোরদার আন্দোলন শুরু করেছেন, তেমনই ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) নেতৃত্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা। এমনকী জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আরও বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়ে রেখেছেন CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকে। সব মিলিয়ে, এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে রাহুলের এই নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আন্দোলনকে আরও সংঘবদ্ধ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *