৯/১১-এর সুরক্ষার জেরেই ককপিটে ‘খুনি’ অস্ত্র? ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে!

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ঘটা ভয়ঙ্কর ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কো-পাইলট হামামের হঠাৎ হামলায় আহত হন প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সাহসিকতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে শেষ পর্যন্ত তিনি ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচান। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, বিমানে কড়া নিরাপত্তা ও যেকোনো ধরণের অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, ঠিক কোন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালালেন ওই কো-পাইলট?
প্রাথমিক জল্পনা ছিল, বিমানের কাটলারি বা খাবারের ছুরি ব্যবহার করেই হয়তো স্মিতকে আঘাত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম CBS News-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অভিযুক্ত হামলাকারী বাইরে থেকে কোনো অস্ত্র বা ছুরি বিমানে নিয়ে আসেননি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দাবি ও তদন্ত CBS-এর রিপোর্ট জানাচ্ছে, স্মিতের উপর হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল বিমানের ককপিটেই রাখা একটি ‘ক্র্যাশ এক্স (Crash Axe)’ বা ছোট কুঠার জাতীয় একটি ফায়ার এক্স।
কেন ককপিটে থাকে এই কুঠার?
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটে এই বিশেষ ধরণের কুঠার বা ক্র্যাশ এক্স রাখা বাধ্যতামূলক। বিমান তৈরির সময়ই নিরাপত্তা সরঞ্জাম হিসেবে এটি ককপিটে সংযোজন করা হয়।
কয়েক দশক ধরেই যেকোনো ধরণের দুর্ঘটনার পর জরুরি পরিস্থিতি ও উদ্ধারকার্যের প্রয়োজনে বিমানে বিভিন্ন ধরণের অ্যাক্স বা কুঠার রাখার প্রথা চলে আসছে। তবে একসময় এই সরঞ্জাম যাত্রীদের কেবিনে রাখা হলেও, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ টুইন টাওয়ার হামলার পর সুরক্ষার খাতিরে তা ককপিটে পাইলটদের হাতের নাগালে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই ককপিটে রাখা সেই প্রাণঘাতী ‘ক্র্যাশ এক্স’ দিয়েই প্রধান পাইলটের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন কো-পাইলট।