পুজোর আগেই মারুতি সুজুকি নিয়ে বিরাট বিপাকে ক্রেতারা! বুকিং করলেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সংখ্যাটা জানলে চমকে যাবেন

আসন্ন উৎসবের মরসুমের আগে ভারতীয় বাজারে গাড়ির চাহিদা আকাশচুম্বী। তবে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষ গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki)-কে। সংস্থার দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর পর্যন্ত মারুতির ঝুলিতে দুই লক্ষেরও বেশি গাড়ির পেন্ডিং বুকিং বা অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। অর্থাৎ, গ্রাহকরা গাড়ি বুক করলেও ডেলিভারির জন্য তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মাসিক সেলস মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মারুতি সুজুকির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) পার্থ ব্যানার্জী জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কোম্পানির ডিলার নেটওয়ার্কের কাছে মাত্র ১৭ দিনের স্টক মজুত ছিল। আসন্ন উৎসবের মরসুমে এই বিপুল চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাটাই এখন কোম্পানির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পার্থ ব্যানার্জীর মতে, বিষয়টি কেবল বেশি মাত্রায় গাড়ি উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোয়ালিটি এবং সহজলভ্যতা—দুটি দিকেই সমানভাবে নজর দিচ্ছে সংস্থা।

উৎপাদন বাড়াতে হরিয়ানার নতুন প্ল্যান্ট
গ্রাহকদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবং সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করতে মারুতি সুজুকি হরিয়ানার খারখোদায় তাদের নবনির্মিত প্ল্যান্টে উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এই নতুন প্রোডাকশন লাইনেই জনপ্রিয় এসইউভি ‘ব্রেজা’ তৈরি করা হচ্ছে। কোম্পানির আশা, নতুন প্ল্যান্টের মাধ্যমে আগামী দিনে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সেপ্টেম্বরে বিক্রির রেকর্ড ও দুর্দান্ত রপ্তানি
উৎপাদনের চাপ থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে মারুতি। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অভ্যন্তরীণ বাজারে অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুতকারকদের কাছে বিক্রি সহ সংস্থাটি মোট ১,৯১,৭৯৪ ইউনিট গাড়ি বিক্রি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

রপ্তানির বাজারেও মারুতি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সেপ্টেম্বরে বিদেশে ৪৪,২১৯টি গাড়ি পাঠিয়েছে সংস্থাটি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি আর্থিক বছরের প্রথমার্ধে (এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) মোট রপ্তানি রেকর্ড ২.৩২ লক্ষ ইউনিটে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক হিসেবে ১২.২ শতাংশ বেশি। কোম্পানির দাবি, এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারতের মোট গাড়ি রপ্তানির ৫২ শতাংশই ছিল মারুতির দখলে।

ব্রেজার অভাবনীয় চাহিদা
মারুতির এই বিপুল পেন্ডিং বুকিংয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নতুন ‘ব্রেজা ২০২৬’। এই এসইউভিটির বুকিং ইতিমধ্যেই ৯৫,০০০ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই তা ১ লক্ষের গণ্ডি পার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একাই সেপ্টেম্বরে ১৫, হাজারেরও বেশি ব্রেজা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নতুন আপডেট হওয়া ‘ব্যালেনো’ গাড়িটিও লঞ্চের প্রথম মাসেই ২৫,০০০ ইউনিট বিক্রি করে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

গ্রাহকদের পছন্দেও এসেছে বৈচিত্র্য। ব্রেজার ক্ষেত্রে প্রায় ৩৮ শতাংশ বুকিং এসেছে টার্বো ভ্যারিয়েন্টের জন্য, ৪০ শতাংশ সিএনজি ভার্সন এবং ২২ শতাংশ বুকিং হয়েছে ১.৫-লিটার পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টের জন্য। শুধু এসইউভি নয়, কোম্পানির তথ্য বলছে—বছরের প্রথম ছয় মাসে এন্ট্রি-লেভেল হ্যাচব্যাকের বিক্রি ৮৬ শতাংশ, মিড-সাইজ হ্যাচব্যাকের বিক্রি ৪০ শতাংশ এবং এসইউভি-র বিক্রি ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎসবের মরসুমে এই বিপুল বুকিং দ্রুত গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে এখন দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন মারুতির ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *