ইউপি ভোটের আগে মেগা টুইস্ট! হাত শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন হেভিওয়েট নেতা স্বামী প্রসাদ মৌর্য?

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়তে শুরু করেছে। ক্ষমতা দখলের এই লড়াইয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলই যখন রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পটপরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ওবিসি মুখ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী স্বামী প্রসাদ মৌর্য আজই (শনিবার, ৩ অক্টোবর) কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় শোষিত সমাজ পার্টির জাতীয় সভাপতি স্বামী প্রসাদ মৌর্য আজ রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা। সেখানে কংগ্রেস শীর্ষনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পরই তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেস শিবিরে নাম লেখানোর জোর সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু স্বামী প্রসাদ মৌর্য একা নন, গুঞ্জন রয়েছে যে তাঁর সঙ্গে মথুরার প্রাক্তন বিধায়ক শ্যাম সুন্দর শর্মা এবং দিল্লির প্রাক্তন বিধায়ক অশোক কুমারও হাত শিবিরে যোগ দিতে পারেন।উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে স্বামী প্রসাদের প্রভাবইউপি-র রাজনীতিতে স্বামী প্রসাদ মৌর্য একটি অত্যন্ত পরিচিত ও ওজনদার নাম। বহুজন সমাজ পার্টি (BSP) থেকে রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করে তিনি একসময়ে মায়াবতী সরকারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে বিএসপি ছেড়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন এবং যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। কিন্তু ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি ত্যাগ করে সমাজবাদী পার্টিতে (SP) যোগ দেন তিনি। এসপি-র টিকিটে বিধান পরিষদের সদস্য হলেও পরবর্তীতে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে সেই পদ ও দল ছেড়ে তিনি নিজের আলাদা দল ‘রাষ্ট্রীয় শোষিত সমাজ পার্টি’ গঠন করেন। আর এবার নির্বাচন দোরগোড়ায় আসতেই তাঁর এই দলবদলের জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের জল্পনারাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্বামী প্রসাদ মৌর্য শুধু একা কংগ্রেসে যোগ দিয়েই থামছেন না, বরং তাঁর দল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে নির্দিষ্ট কিছু আসনে লড়তে পারে। উত্তরপ্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনগ্রসর ও দলিত ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণকে নিজেদের অনুকূলে টানতে মৌর্যের এই দলবদল কংগ্রেস ও বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে আজকের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।