“গ্রাম স্বরাজে স্বজনপোষণ ও রাজনীতির স্থান নেই!” মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের

জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁর সরকার গ্রামকে উন্নয়নের শেষ ধাপ হিসেবে নয়, বরং একটি আত্মনির্ভর উত্তর প্রদেশ ও নতুন ভারতের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখে। শক্তিশালী পঞ্চায়েত এবং সমৃদ্ধ গ্রামই ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর আসল চাবিকাঠি, যেখানে স্বজনপোষণ বা পরিজন-কেন্দ্রিক রাজনীতির কোনো স্থান নেই।
উন্নয়নের বদলে আগে চলত শুধু প্রতিশ্রুতি ও রাজনীতি
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ২০১৭ সালের আগের সরকারগুলির জমানায় গ্রামগুলি শুধু প্রতিশ্রুতিই পেত, কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হতো না। গ্রামের নামে নোংরা রাজনীতি চললেও ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ছিল প্রকট। এমনকি আয় বা জাতি শংসাপত্রের মতো অতি সাধারণ কাজের জন্যও গ্রামবাসীদের তহসিল, থানা কিংবা জেলা সদর দপ্তরে চক্কর কাটতে হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই বৈতরণী পার করে গ্রামীণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।
ডিজিটাল ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের গ্রামগুলি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত সাড়ে নয় বছরে রাজ্যের প্রায় ৫৭,৬০০টি গ্রাম সচিবালয়কে ‘ই-গ্রাম স্বরাজ’, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন পর্যবেক্ষণের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির কার্যক্রমে যেমন স্বচ্ছতা এসেছে, তেমনই প্রতিটি গ্রামে অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই সাফল্যের ধারা বজায় রেখেই এবার রাজ্যজুড়ে আরও ১১,৩৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে হাইটেক ‘ডিজিটাল লাইব্রেরি’ স্থাপন করা হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার যে সর্বতোভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এই মেগা প্রজেক্ট তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।