ইন্দ্রনীলের সংস্থার টাকা সোজা মমতার অ্যাকাউন্টে! ইডির বিস্ফোরক দাবির পরেই কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে চলা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের (ইডি) আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে এবার সরাসরি উঠে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে। আর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও চর্চা শুরু হয়েছে।
কী দাবি করছে ইডি? তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রি-পুজো পাস এবং ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে চলা দুর্নীতির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ এবং অন্যান্য যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নজরদারি চালায় ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, ওই সমস্ত সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ধারা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা স্থানান্তরের তথ্যটি নজরে আসে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, গান বা রয়্যালটি সংক্রান্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ওই অর্থ লেনদেন হয়েছিল এবং তা আয়কর রিটার্নেও দেখানো রয়েছে। তবে এই সাফাই মানতে নারাজ বিরোধী শিবির।
কী প্রতিক্রিয়া দিলীপ ঘোষের? ইডির এই বিস্ফোরক রিপোর্টের পর কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন বিশিষ্ট বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, “উনি নিজে সততার প্রতীক সেজে সবাইকে ফাঁসিয়েছেন। কিন্তু এই চালাকিটা আর বেশিদিন চলবে না।” দিলীপ ঘোষের মতে, অতীতে দলের অন্যান্য মন্ত্রী-নেতারা ফেঁসে গেলেও শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের আড়াল করার যে চেষ্টা চালিয়েছিলেন, ইডির এই নতুন তথ্যে সেই মুখোশ খুলে গিয়েছে। সবমিলিয়ে, পুজোর মরশুমের ঠিক আগে এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে হাই-প্রোফাইল নাম জড়িয়ে পড়ায় আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দান যে আরও উত্তপ্ত হবে, তা বলাই বাহুল্য।