কেরলের মেয়ে হয়েও মমতাকে বা বাংলার রাজনীতিকে নয়, অন্য কাকে নিজের ‘সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা’ বললেন হায়দরাবাদের এসএফআই নেত্রী দিলশাদা?

হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্বেদকর অডিটোরিয়াম। ঠিক এক বছর আগেও এই একই অডিটোরিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে হয়েছিল তাঁকে। এবিভিপি জয়লাভ করার পর তাঁর আক্ষেপভরা প্রশ্ন ছিল— দেশের সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীরা তবে এখন কীভাবে টিকে থাকবে? কিন্তু এক বছর ঘুরতেই চাকা ঘুরে গিয়েছে পুরোপুরি। অতীতের সেই কান্নাই আজ রূপ নিয়েছে বিজয়ের হাসিতে। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতি এখন সেই দিলশাদা রায়হানই। ব্যস্ত রাজনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক কর্মসূচির ব্যস্ততার মাঝেই টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে নিজের লড়াই, জয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন এই এসএফআই নেত্রী।
ভোটের ময়দানে নাটকীয় বদল ও মহাজোটের জয় গত বছর হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রধান ছ’টি পদেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল এবিভিপি-এসএলভিডি জোট। কিন্তু এ বছর সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। এসএফআই এবং এএসএ ছাড়াও এআইএসএ, ডিএসইউ এবং টিএসএফ একসঙ্গে হাত মিলিয়ে এক শক্তিশালী বৃহত্তর বিরোধী জোট তৈরি করে। যার ফলস্বরূপ, এ বছর ছাত্র সংসদের ছ’টি প্রধান পদের মধ্যে পাঁচটিই চলে আসে এই জোটের দখলে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের পর প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে দিলশাদা রায়হান ২,১৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবিভিপি-এসএলভিডি জোটের নরেশ পি-কে তিনি ৪৫১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
টিভি৯ বাংলার মুখোমুখি হয়ে যা বললেন দিলশাদা রায়হান সাক্ষাৎকারের শুরুতেই দিলশাদার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই নাটকীয় জয়ের নেপথ্যে আসল কারণ কী? জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, বাম, আম্বেদকরপন্থী, দলিত ও আদিবাসী সংগঠনগুলির ঐতিহাসিক ঐক্যই এই জয়ের মূল ভিত্তি। তাঁর কথায়, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মনে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জমছিল। গত এক বছরে ক্যাম্পাসে সংখ্যালঘু ও দলিত পড়ুয়ানিধনের ঘটনা এবং লাগাতার ফি বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ছাত্রসমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে এসএফআই ক্ষমতার বাইরে থাকা সত্ত্বেও এই জয় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, সেই প্রশ্নও রাখা হয় তাঁর সামনে। আত্মবিশ্বাসী দিলশাদার সাফ জবাব, তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে এবিভিপি বা যেকোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে হারানো অসম্ভব কিছু নয়। বাংলার রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি জানান, তিনি কেরলের বাসিন্দা হলেও বাংলার বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু তাঁর অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।
বিশ্রামের ফুরসত নেই, লড়াই জারি নির্বাচন শেষ হলেও এখনই বিশ্রামের সুযোগ নেই বলে জানালেন এই নবনির্বাচিত নেত্রী। ভোটের ফল ঘোষণার সময় গণনাকক্ষ ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং প্রশাসন ও বিরোধীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পরাজয় কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না প্রতিপক্ষ। তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে ক্যাম্পাস ও দেশের প্রতিটি কোণায় ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ছাত্রনেত্রী দিলশাদা রায়হান।