৬৮,৫০০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চরম অনিয়ম! ৮ বছর ধরে না পেয়ে এবার কোন বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিলেন প্রার্থীরা?

উত্তরপ্রদেশ রাজ্য জুড়ে ৬৮,৫০০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে চলা দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং ক্ষোভ আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংরক্ষণ বৈষম্য এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা অমীমাংসিত পদের জট কাটার নাম না নেওয়ায় চরম হতাশ প্রার্থীরা এবার আন্দোলনের পথ আরও তীব্র করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আপনা দল (এস)-এর সুপ্রিমো অনুপ্রিয়া প্যাটেলের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনা ও দাবির একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তাঁর হাতে তুলে দেন। শুধু তাই নয়, প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন যাতে তিনি অবিলম্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দরবারে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করে একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র বের করেন।
৮ বছর ধরে শুধু আশ্বাস, ক্ষোভে ফুটছেন প্রার্থীরা
আন্দোলনকারী প্রার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা গত দীর্ঘ আট বছর ধরে চাকরির আশায় তদ্বির করে আসছেন এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরে কেবল সান্ত্বনা ও আশ্বাসের বাণীই শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাঁদের প্রধান ও গুরুতর অভিযোগ হলো, ৬৮,৫০০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে সংরক্ষণের বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। সংরক্ষিত বিভাগের প্রার্থীদের জন্য প্রাপ্য ৫ শতাংশের যে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, তাও সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের। যার জেরে গোটা সংরক্ষণ নীতিতেই এক বিরাট অসঙ্গতি ও বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
এখনও খালি পড়ে রয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি পদ
ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের দাবি, এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ২৩,০০০-এরও বেশি পদ সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ওবিসি (OBC) বা অনগ্রসর শ্রেণী বিভাগের জন্যই ৯,০০০-এরও বেশি পদ সংরক্ষিত রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন।
প্রার্থীরা বর্তমানে একটাই জোরালো দাবি তুলে ধরেছেন— রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের সমস্ত সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং তার ভিত্তিতে একটি সংশোধিত ও স্বচ্ছ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাঁদের সাফ কথা, যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগপত্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী বা শিডিউল প্রকাশিত হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁদের এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না।
আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা
৬৮,৫০০ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বঞ্চিত প্রার্থীরা অবশ্য এই প্রথমবার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এমনটা নয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেই ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা লখনউতে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যের বাসভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। সেবারও প্রতিবাদীরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে আলোচনার এবং রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণী কমিশনের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের দাবি তুলেছিলেন।
এরপর গত ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রার্থীরা বিজেপির রাজ্য কার্যালয় চত্বরেও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনের দিন তাঁরা অভিনব কায়দায় নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান। শুধু তাই নয়, মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর সহ অনগ্রসর শ্রেণীর অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবনও ঘেরাও করতে পিছপা হননি তাঁরা। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনে অহিংস পন্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন প্রার্থীরা। প্রতিনিধি দলের সদস্য আশুতোষ জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো ধরনের সহিংস প্রতিবাদে না গিয়ে বরং পারিবারিক ও সামাজিক স্তরে তাঁদের দীর্ঘদিনের এই উদ্বেগ ও কষ্টের কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। সমস্ত দিক বিবেচনা করে অনুপ্রিয়া প্যাটেল প্রার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যথোপযুক্ত মহলে উত্থাপন করবেন।