সন্ধিপুজোর পবিত্র লগ্নেই জ্বলবে ১০৮টি প্রদীপ! এ বছরের দুর্গাপুজোয় মহাষ্টমী ও সন্ধি পুজোর নিখুঁত সময় জেনে নিন এক নজরে

দেখতে দেখতে দুয়ারে হাজির বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। আর মাত্র একটি সপ্তাহের অপেক্ষা, শুরু হয়ে গিয়েছে দিন গোণা। বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর মহা সপ্তমী। তবে তার আগের দিন অর্থাৎ মহাষষ্ঠীতেই হবে দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণ-অধিবাস। আর তার সঙ্গেই আনন্দের সুর মেখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকের কাঠি পড়ে যাবে শারদোৎসবে। দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামার আনন্দ, দিন-রাত প্যান্ডেল হপিং, মহাঅষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি আর সন্ধিপুজোর সেই অলৌকিক মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে প্রতি বছরই সন্ধিপুজোর সঠিক সময়সূচি নিয়ে ভক্তদের কৌতুহল থাকে তুঙ্গে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ২০২৬ সালের সন্ধিপুজোর নিখুঁত মহেন্দ্রক্ষণ কখন।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী পুজো ও সন্ধিপুজোর সময়সূচি
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, আগামী ১৮ অক্টোবর (রবিবার, ৩০ আশ্বিন) মহাঅষ্টমী তিথি পড়ছে।

অষ্টমী তিথি আরম্ভ: রবিবারে ভোর ৫টা ৫২ মিনিট ১০ সেকেন্ডে।

অষ্টমী তিথি সমাপ্তি: পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ড পর্যন্ত।

পঞ্জিকার নিয়ম অনুসারে, সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে (তবে সন্ধিপুজোর খাতিরে সকাল ৭টা ২৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে) এবং কালবেলার বিধিনিষেধ মেনে সকাল ৭টা ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে দেবী শারদীয়ার মহাঅষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমী বিহিত পূজা সম্পন্ন করা প্রশস্ত। একই দিনে পালিত হবে বীরাষ্টমী ও মহাষ্টমীর ব্রতোপবাস।

সন্ধিপুজো শুরু: ১৮ অক্টোবর সকাল ৭টা ২৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে।

সন্ধিপুজো সমাপ্তি: সকাল ৮টা ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী সময়সূচি
অন্যদিকে, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর (রবিবার, ১ কার্তিক) মহাঅষ্টমী তিথি গণনা করা হচ্ছে।

অষ্টমী তিথি আরম্ভ: রবিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।

অষ্টমী তিথি সমাপ্তি: ১৯ অক্টোবর (সোমবার, ২ কার্তিক) সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে।

এই পঞ্জিকা মতে,

সন্ধিপুজো শুরু: ১৮ অক্টোবর সকাল ১০টা ২৮ মিনিট থেকে।

সন্ধিপুজো সমাপ্তি: সকাল ১১টা ১৬ মিনিটের মধ্যে।

একই সঙ্গে এই পুণ্যলগ্নেই শ্রীশ্রী কালিকা দেবী ও মহিষমর্দিনী দেবীর আবির্ভাব দিবস পালিত হবে। এ দিনই উদযাপিত হবে মহারাত্রির বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও কুমারী পূজা। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, ১০৮টি পদ্ম ও ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধিপুজোর সমাপ্তি মানেই মহা নবমী তিথির সূচনা। আর নবমী আসা মানেই মনের কোণে সেই চেনা সুরের আকুতি— ‘যেও না নবমী নিশি’। দেখতে দেখতে নবমীর ধুনুচি নাচ আর ঢাকের বোলের পর এসে পড়বে বিজয়া দশমী। সিঁদুর খেলা, দেবী বরণ আর মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে বিদায়ের সুর বাজবে চারিপাশে। অশ্রুসজল চোখে ফের শুরু হবে আর একটা বছরের সুদীর্ঘ প্রতীক্ষা, মনে ধ্বনিত হবে সেই চিরন্তন বাক্য— ‘আসছে বছর আবার হবে’!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *