তিলোত্তমার সৎকার মামলায় বিরাট মোড়! পুলিশের হাত থেকে তদন্ত কেড়ে সিবিআইকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

তিলোত্তমার সৎকার মামলায় তদন্তের দায়িত্ব থেকে রাজ্য পুলিশকে অব্যাহতি দিয়ে সরাসরি সিবিআই (CBI)-এর হাতে মামলা তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। চলতি বছরের ১০ আগস্ট নির্মল ঘোষ এবং সোমনাথ দে-সহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল তিলোত্তমার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার তদন্তভার গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, পুলিশের এই কার্যক্রমে কোনো আইনি যুক্তি বা সারবত্তা খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে হাইকোর্ট স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) তৈরি করে দেওয়ার পরেও কেন পুলিশ যথাযথ কাজ করল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খড়দহ থানার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিচারপতি।
খড়দহ থানার ভূমিকা ও আদালতের ভর্ৎসনা
তিলোত্তমার পরিবারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার পুলিশ নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছিল। আর এই নতুন এফআইআর প্রক্রিয়া ঘিরেই পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। আদালতের প্রশ্ন ছিল, আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত করছে—এই সহজ সত্য কি খড়দহ থানার পুলিশ জানত না? পুলিশ কি আইন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ?
বিচারপতি শম্পা সরকার আরও কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে বলেন, “আদালতের সঙ্গে কি চালাকি করেই এই এফআইআর করা হয়েছে?” প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার কড়া পদক্ষেপেরও নির্দেশ দিতে পারে এই আদালত, এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই মামলার অপর বেঞ্চের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেছেন, অভিযোগপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি পুলিশ এভাবে এফআইআর করতে শুরু করে, তবে অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও যেন এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। পুলিশের এহেন পদক্ষেপে হাই কোর্টের মামলার জট ও বোঝা কিছুটা কমবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আদালতের ভর্ৎসনা এবং সিবিআই তদন্তের নির্দেশ পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের একবার জোরালো প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।