যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, চ্যাংদোলা করে তুলল পুলিশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার আম আদমি পার্টি (AAP) এবং বিভিন্ন বিরোধী দল ও ছাত্র সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তি। পূর্বঘোষিত এই বিক্ষোভের পক্ষে দিল্লি পুলিশের তরফে কোনো অনুমতি দেওয়া না হলেও দমে থাকেননি আন্দোলনকারীরা। ফলস্বরূপ, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা।

সৌরভ ভরদ্বাজ সহ একাধিক নেতাকে আটকের চেষ্টা
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে জমায়েত শুরু করেন আপ কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু তার বহু আগেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই আম আদমি পার্টির বিশিষ্ট নেতা তথা সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকে পুলিশ জোর করে আটক ও চ্যাংদোলা করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশি বলপ্রয়োগের জেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারী কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গেও পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ ও বচসা বেধে যায়।

বিভিন্ন সংগঠনের এই আন্দোলনের মোকাবিলা করতে এদিন সকাল থেকেই কোমর বেঁধে মাঠে নামে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর-সহ নয়া দিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (পুরনো ১৬৩ বা বর্তমানের ১৪৪ ধারা) বলবৎ করে যাবতীয় জমায়েত ও জনসভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাস্তায় নামানো হয় দাঙ্গা দমন শাখার পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী।

কারা ডাক দিয়েছিলেন এই আন্দোলনের?
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং বিশিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। গান্ধী জয়ন্তীর এই দিনটিতে যন্তর মন্তরে যৌথভাবে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের।

মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও কড়া নিরাপত্তা
অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামতে পারেন—এই আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ সকাল থেকেই কড়া পদক্ষেপ নেয়। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন যেমন—রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক, জনপথ ও মান্ডি হাউজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সেখানে ট্রেন দাঁড়াচ্ছে না এবং যাত্রীদের যাতায়াতও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড ও বিপুল পুলিশ মোতায়েনের জেরে যান চলাচলেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবমিলিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়েছে রাজধানীর বুকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *