পিএমও-র ভুয়ো অফিসার সেজে সোজা নবান্নে! গোপন তথ্য হাতানোর অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার তরুণী

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) ভুয়ো আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরাসরি রাজ্য প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে প্রবেশ এবং গোপন প্রশাসনিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। এই কাণ্ডে অভিযুক্ত আকাঙ্ক্ষী বিদ্যার্থী নামের এক মহিলাকে রাজধানী দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে হাওড়ায় নিয়ে এল পুলিশ।
নবান্নে ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দিল্লির বাসিন্দা অভিযুক্ত আকাঙ্ক্ষা আগে থেকেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাতের সময় নিয়ে নবান্নে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তিনি খোদ পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার এবং দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় নিজেকে পিএমও-র (PMO) সিনিয়র অফিসার হিসেবে দাবি করে তিনি বেশ কিছু গোপন ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক তথ্য জানতে চান।
তবে তাঁর কথাবার্তার ধরণ, আচরণ এবং হাবভাবে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয় আধিকারিকদের মনে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই অভিযুক্ত মহিলা তড়িঘড়ি নবান্ন থেকে চম্পট দেন। পরবর্তীতে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে নিশ্চিত হতেই পূর্ত দপ্তরের তরফে সঙ্গে সঙ্গে শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার ও ট্রানজিট রিমান্ড
অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে ওই মহিলার বর্তমান অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি স্থানীয় আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করানোর পর শুক্রবার সকালে বিমানে করে তাঁকে সরাসরি শিবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। আজই অভিযুক্তকে হাওড়া আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (CJM) এজলাসে পেশ করা হবে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে। ওই মহিলা ঠিক কোন অসৎ উদ্দেশ্যে বা কার ইন্ধনে নবান্নে এসে এই ধরনের গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনো আন্তঃরাজ্য প্রতারক চক্র বা বড় কোনো ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।