সীমান্ত সুরক্ষায় নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কাঁটাতারের বেড়া লাগাতে দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কড়া নির্দেশ রাজ্যের

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে রুখতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজে গতি আনতে এবার জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অর্থের কোনো অভাব নেই, তাই কাজে কোনো রকম বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না।

জমি অধিগ্রহণের বর্তমান পরিস্থিতি

নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মোট ৪৫০ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৯টি জেলায় ১,১৭৭ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রয়েছে আর মাত্র প্রায় ৯৪ একর জমি। এই সামান্য জমিটুকু হাতে পেয়ে গেলেই বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।

রাজ্যের মোট ২,২১৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১,৬৫৩ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী ৯টি জেলার মধ্যে এখনও ৫টি জেলায় জমি অধিগ্রহণের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে কোচবিহারে ৪৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৮ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২০ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১১ একর এবং নদীয়ায় ৯ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

জেলাশাসকদের কড়া বার্তা ও কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ

বাকি থাকা এই জমিও দ্রুত অধিগ্রহণ করে তা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই জমি অধিগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সমস্ত অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ফলে অর্থের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে কাজের গতি কমানোর কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের অত্যন্ত কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবার সেই কাজকে দ্রুততম গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে নবান্নের এই কড়া পদক্ষেপ সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *