“ছেলের ৫ বছর বয়স হতেই এসব শেখান!” পর্নোগ্রাফি ও সেক্স নিয়ে বাবা-মায়ের জন্য একেবারে চোখ খোলে দেওয়া বার্তা দিলেন দিয়া মির্জা

পুত্র হোক কিংবা কন্যাসন্তান, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েদের শুধু বড় করে তুললেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং তাদের একজন সংবেদনশীল ও সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রধান কর্তব্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনই এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি বিষয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী তথা সমাজকর্মী দিয়া মির্জা। তাঁর মতে, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নিজেদের শরীর, যৌনতা এবং ব্যক্তিগত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত দরকার।
দিয়ার নিজের ছেলের বয়স এখন ৫ বছর, নাম অভ্যান। অভিনেত্রীর বিশ্বাস, সমাজে সমতা এবং পারস্পরিক সম্মানের মূল ভিত্তিটা তৈরি হওয়া উচিত একেবারে নিজের বাড়ি থেকেই। ঘরের পুরুষ সদস্যরা কীভাবে নারীদের সম্মান করছেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ ভাগ করে নিচ্ছেন, তা শিশুরা ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য করে। তাই ছেলেমেয়েদের শরীর ও গোপনাঙ্গ সম্পর্কে কোনো ধরনের লজ্জা বা অপরাধবোধ তৈরি না করে, সঠিক নামে তাদের কথা বলতে শেখানো উচিত।
পর্নোগ্রাফি ও ‘সম্মতি’ নিয়ে বড় বার্তা
সাক্ষাৎকারে দিয়া আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েদের বয়সোপযোগী ফ্যান্টাসি, যৌনতা এবং পর্নোগ্রাফির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি। বিশেষ করে পুত্রসন্তানদের ছোট থেকেই এমনভাবে বড় করা দরকার যাতে তারা বুঝতে পারে যে, ‘সম্মতি’ বা কনসেন্ট (Consent) মানে শুধু ‘না’-কে সম্মান করা নয়, বরং তা হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ‘হ্যাঁ’। কারও কাছ থেকে অন্তরঙ্গতা জোর করে আদায় করা যায় না এবং প্রত্যাখ্যান বা ‘রিজেকশন’ কোনোভাবেই কোনো লজ্জার বিষয় হতে পারে না।
নারীদের প্রতি সামান্য অসম্মান দেখলে ছেলেদের তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখানো উচিত বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। পরিবার ও সমাজ স্তরে সঠিক সচেতনতা তৈরি হলেই কেবল একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও লিঙ্গসাম্যের পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেছেন দিয়া মির্জা।