দলিলে শুধু দু’টি নাম থাকলেই কি মালিকানা নিশ্চিত? জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনার আগে এই গোপন সত্যিগুলো না জানলে পস্তাবেন!

দাম্পত্য জীবনে পা রেখে বা একসঙ্গে ভবিষ্যতের সুরক্ষায় অনেকেই জীবনসঙ্গীর সঙ্গে যৌথভাবে ফ্ল্যাট বা জমি কেনেন। ট্যাক্স বাঁচানো কিংবা পারস্পরিক বিশ্বাসের খাতিরে বিক্রয় দলিল বা ‘সেল ডিড’-এ স্বামী এবং স্ত্রী—উভয়ের নামই রাখাটা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু অনেকেই মনে করেন যে দলিলে দু’টি নাম থাকলেই বুঝি কে কত অংশের মালিক, তা নিয়ে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণাই ডেকে আনতে পারে সবচেয়ে বড় বিপদ। ভবিষ্যতে সম্পর্ক ভাঙলে, সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলে কিংবা আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এই ছোট ভুলের খেসারত দিতে হতে পারে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে।
সেল ডিডে সই করার আগে কোন ৪টি বিষয় মাথায় রাখা দরকার?
-
মালিকানার শতাংশ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন: শুধু যৌথ নাম থাকলেই চলবে না, কার কত শতাংশ মালিকানা রয়েছে (যেমন ৫০-৫০ নাকি আলাদা অনুপাতে) তা দলিলে একেবারে স্পষ্ট করে লেখা উচিত। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কে ডাউন পেমেন্টে কত টাকা দিয়েছেন, তার সঠিক ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও পেমেন্ট রেকর্ড রাখা অত্যন্ত জরুরি।
-
কর বা ট্যাক্সের সুবিধা নিয়ে বিভ্রান্তি নয়: শুধুমাত্র দলিলে নাম থাকলেই দু’জনে সমান কর ছাড় পাবেন, এমনটা নয়। হোম লোনের ক্ষেত্রে কে কত টাকা ইএমআই দিচ্ছেন এবং মালিকানার অংশ কতখানি, তার ওপর নির্ভর করেই আয়কর বিভাগ কর ছাড় বা মূলধনী লাভের হিসেব নির্ধারণ করে।
-
অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পরিণতি নিয়ে ভাবনা: স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজনের আকস্মিক প্রয়াণ ঘটলে জীবিত সঙ্গী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরো সম্পত্তির মালিক হয়ে যান না। মৃত ব্যক্তির অংশের আইনগত উত্তরাধিকার কে হবেন, তা নির্ভর করে উইল এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার আইনের ওপর। তাই দলিলে নাম তোলার পাশাপাশি একটি সঠিক ‘উইল’ বা মনোনয়নের ব্যবস্থা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
-
ভবিষ্যতে সম্পত্তি বিক্রি বা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত: দীর্ঘমেয়াদী এই সিদ্ধান্তে আগে থেকেই আলোচনা করে নেওয়া ভালো যে, ভবিষ্যতে কেউ নিজের অংশ বিক্রি করতে চাইলে বা পুরো সম্পত্তি বিক্রি করার প্রয়োজন পড়লে কী নিয়ম মানা হবে। এছাড়া স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং ঋণের যাবতীয় রসিদ যত্ন করে গুছিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক।
রেজিস্ট্রেশনের আগে আইনি ও আর্থিক এই সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলি খতিয়ে না দেখলে পরবর্তীকালে বড় আইনি জালে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই তাড়াহুড়ো না করে সমস্ত শর্ত পরিষ্কার জেনেই তবে কলম ধরুন।