স্যালারি স্লিপ দেখে চমকে গেছেন? পিএফ-এর নতুন নিয়মে বদলে গেল আপনার বেতনের হিসেব

চলতি মাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পে-স্লিপ হাতে পাওয়ার পর যদি আপনার মনে হয় যে ইন-হ্যান্ড স্যালারি বা হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা কমেছে, তবে জানিয়ে রাখি যে আপনি একা নন। অনেক চাকরিজীবী মানুষেরই সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দেখে এমনটা মনে হয়েছে। তবে এর জন্য ঘাবড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনার কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা আপনার বেতন কাটেননি, বরং কর্মচারী ভবিষ্য তহবিল সংগঠন বা EPFO-এর নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ কাটার জন্য মূল বেতন বা বেসিক ওয়েজ লিমিটের সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে।

কী পরিবর্তন এনেছে EPFO?

এতদিন ধরে পিএফ কাটার জন্য সর্বোচ্চ বেসিক স্যালারির সীমা ১৫,০০০ টাকা নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ কর্মীর মূল বেতন এর চেয়ে বেশি হলেও পিএফ কাটা হতো ১৫ হাজার টাকার ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ওয়েজ সিলিং বা মূল বেতনের সীমা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে কোম্পানিগুলি এখন এই নতুন বর্ধিত সীমার আলোকেই পিএফ কাটতে শুরু করেছে।

বেতনে কী প্রভাব পড়ছে?

আগের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ হাজার টাকার ওপর ১২ শতাংশ হারে পিএফ বাবদ ১,৮০০ টাকা কাটা হতো। এখন ওয়েজ সিলিং ২৫,০০০ টাকা হওয়ায় ১২ শতাংশ হিসেবে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা কাটা হচ্ছে। এর ফলে আপনার ইন-হ্যান্ড বা হাতে পাওয়া বেতনে সামান্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে ঠিকই, তবে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত লাভজনক। নিয়ম অনুযায়ী, কর্মী যত টাকা পিএফ-এ দেন, ঠিক ততটুকুই বা তার বেশি অংশ কোম্পানিও জমা করে। ফলে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে আরও বেশি অর্থ জমা হবে, যা পরবর্তীতে আপনার রিটায়ারমেন্ট বা অবসরকালীন ফান্ডকে অনেক শক্তিশালী করবে এবং মাসিক পেনশন বাড়াতেও সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *