অফিসের ইঁদুর দৌড় কেড়ে নিচ্ছে জীবন! ৩০ পেরোতেই মারাত্মক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে এনসিআর-এর কর্মীরা

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রাফিকের জ্যামে আটকে থাকা, অফিসে পৌঁছে একটানা ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করা এবং বাড়ি ফিরেও ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে ইমেল বা মেসেজ চেক করা—দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) অঞ্চলে কর্মরত লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন এভাবেই কাটছে। উন্নত কেরিয়ার এবং ভালো আয়ের আশায় মেট্রো শহরগুলিতে ভিড় জমানো মানুষগুলির জীবনে অজান্তেই বাসা বাঁধছে চরম মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। আর এবার এক নতুন সমীক্ষায় উঠে এল অত্যন্ত উদ্বেগের এক ছবি, যা শহরের কর্পোরেট কর্মীদের স্বাস্থ্যের করুণ দশাকে প্রকাশ্যে এনেছে।

কম বয়সেই বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা

‘ওয়ার্কফোর্স হেলথ ইনডেক্স ২০২৬’ (Workforce Health Index 2026)-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা, মানসিক অবসাদ, কম ঘুম এবং লিভারের নানা জটিলতা এখন বয়স্কদের গণ্ডি পেরিয়ে কম বয়সীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এই সমীক্ষায় ৮ লক্ষেরও বেশি ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট, ৯ হাজারের বেশি মানুষের মতামত এবং প্রায় ৭৪ হাজার হাসপাতালের ক্লেম রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতি তিনজনে এক জনের রক্তে বাড়ছে সুগার

রিপোর্টের সবচেয়ে ভয়ের দিকটি হলো, এই সমস্যাগুলি শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কুড়ির কোঠায় থাকা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ১৬.৭ শতাংশের রক্তে শর্করার গোলমাল দেখা গেছে, যা তিরিশের কোঠায় পৌঁছাতেই লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশে! অর্থাৎ, ৩০ বছর বয়স হলেই প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার ওপরে চলে যাচ্ছে। চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে এই হার ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৫২ শতাংশেরও বেশি।

কী বলছে সমীক্ষার অন্যান্য তথ্য?

  • তীব্র মানসিক চাপ ও কম ঘুম: সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত মানসিক চাপের কথা স্বীকার করেছেন, আর ৩০.৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তাঁরা প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে উচ্চ চাপের হার (৪৭.৪ শতাংশ) অনেকটাই বেশি।

  • ভিটামিনের মারাত্মক ঘাটতি: প্রায় ৮১.৪ শতাংশ কর্মীর শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এবং ৭৩.৯ শতাংশ কর্মীর শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি দেখা গেছে।

  • লিভারের সমস্যায় শীর্ষে দিল্লি: পাঁচটি বড় শহরের মধ্যে একমাত্র দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলেই লিভার ডিসফাংশন বা লিভারের গোলমালের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৩৪.৪ শতাংশ।

অফিসের দীর্ঘ কাজের সময়, ডেস্ক-বাউন্ড জীবনযাপন এবং শহুরে প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড় ধীরে ধীরে তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য কেড়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে এবং নিয়মিত হেলথ চেকআপ না করালে আগামী দিনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *