বই ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ করতেই সহপাঠীর গলায় ছুরি! সাউথ পয়েন্ট কাণ্ডে মুখ খুললেন আহত ছাত্রের বাবা

কলকাতার অন্যতম সেরা এবং নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ক্লাসরুমে সহপাঠীর হাতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্য। বই ছিঁড়ে দেওয়ার একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক হামলার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এবার News18 বাংলার স্টুডিওতে এসে বিস্তারিত জানালেন স্বয়ং আহত ছাত্রের বাবা।
স্কুলের ফোন ও হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্ত
আহত ছাত্রের বাবা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্কুল থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। বলা হয় যে ছেলের গলায় সামান্য চোট লেগেছে এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রথমে পরিবারের ধারণা হয়েছিল ছোটখাটো কোনও আঘাত হয়তো লেগেছে।
কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা শিউরে ওঠেন। চিকিৎসকরা জানান, ওই ছাত্রের গলায় ‘হাফ নেক’ ইনজুরি বা গভীর ক্ষত রয়েছে (ঘাড়ের কাছ থেকে কণ্ঠনালী পর্যন্ত কাটা)। শুধু তাই নয়, সহপাঠীর হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ওই ছাত্রের হাতের ৩টি আঙুলের টেন্ডনও কেটে যায়।
কী কারণে ঘটেছিল এই হামলা?
বাবা জানান, ঘটনার আগের দিন ক্লাসের টয়লেটে তাঁর ছেলের একটি বই কেউ ছিঁড়ে দিয়েছিল। এই বিষয়ে সে শিক্ষকদের কাছে নালিশ জানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বকাঝকা ও শাস্তির মুখে পড়ে অভিযুক্ত ছাত্রটি। আর সেই ক্ষোভ থেকেই পরের দিন পরিকল্পনা করে স্কুলে ছুরি বা সার্জিকাল নাইফ পকেটে নিয়ে আসে সে। রোল কলের ফাঁকে, যখন এক শিক্ষক বেরোচ্ছিলেন এবং অন্য শিক্ষক ঢুকছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই মারাত্মক হামলা চালানো হয়। রক্তে ভেসে যায় ক্লাসঘর।
পরিবারের উদার মনোভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এত বড় ঘটনার পরেও ভেঙে না পড়ে এক প্রকার ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন আক্রান্তের পরিবার। আহত ছাত্রের বাবা জানান, ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠার পর সে ফের ওই স্কুলেই পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রটির মানসিক সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি যা জানতে পেরেছি, বিষয়টি সামাজিক অবক্ষয়ের ফল। যে ছেলেটি এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তার একটু মানসিক সংশোধন হওয়া দরকার।”
অন্যদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে আহত শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। স্কুল তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। ১ অক্টোবর থেকে স্কুল স্বাভাবিকভাবেই চালূ হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রটির ক্ষেত্রে স্কুল জানিয়েছে, তাকে আপাতত বাড়িতে রেখে একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর (Psychologist) মাধ্যমে কাউন্সেলিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।