‘9/11-র মতো ধ্বংস করতে চেয়েছিল!’ মাঝআকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে যা ঘটল, জানলে শিউরে উঠবেন!

ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের মাঝআকাশের রোমহর্ষক ঘটনায় উঠে এল এক অবিশ্বাস্য সাহসিকতার কাহিনী। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানের কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ককপিটের ভিতরেই নির্মমভাবে ছুরি দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে খোদ ৯/১১-র সন্ত্রাসী হামলার তুলনা টেনেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামলাকারীর লাগাতার কোপে হাত ও মুখ ফালাফালা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর যেভাবে চরম সাহসিকতা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখিয়েছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদিও।

ককপিটের ভিতরের ভয়াবহতা ও ইজরায়েলি ডাক্তারের বয়ান
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাঝআকাশে হঠাৎই সহ-পাইলট ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা চালান ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর। ককপিটের ভিতরে বারবার তাঁকে কোপানো হয়। রক্তে ভেসে যাওয়ার পরেও ক্যাপ্টেন জীবনের শেষ মুহূর্তের শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন, যার ফলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে পড়ার সুযোগ পান।

বিমানে থাকা একমাত্র চিকিৎসক তথা ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক ডঃ শোটা মোসায়েভ জানিয়েছেন, হামলা থামার পর তিনি দ্রুত ককপিটে ছুটে যান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, স্মিত মচ্ছরের মাথা এবং হাত কার্যত ফালাফালা হয়ে গিয়েছিল, যা প্রায় দু’ভাগ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল এবং তিনি চেতনা হারাতে শুরু করেছিলেন। চিকিৎসক মোসায়েভ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং ক্যাপ্টেনের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করেন।

যাত্রীদের সাহসিকতা ও হেডফোনের তারে বাঁধন
চিকিৎসক যখন আহত ক্যাপ্টেনের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত, তখন বিমানের অন্যান্য যাত্রী ও অফ-ডিউটি পাইলটরা মিলে আক্রমণকারীকে বাগে আনার চেষ্টা করেন। প্রথমে একজোড়া হেডফোনের তার এবং পরবর্তীতে প্লাস্টিকের জিপ-টাই ব্যবহার করে হামলাকারীকে শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়। চিকিৎসকের দাবি, আটকানোর পর ওমানের নাগরিক ওই সহ-পাইলট আর কোনো প্রতিরোধ করেনি এবং চুপচাপ বসে ছিল।

জরুরি অবতরণ এবং নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানটির গতিপথ ঘুরিয়ে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামে। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীকে পরে বিকল্প বিমানে করে ইজরায়েলে পাঠানো হয়।

এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যের কারণ এখনও পরিষ্কার না হলেও, ইজরায়েলি কর্মকর্তারা এটিকে বিমান ছিনতাই ও ভেঙে ফেলার চক্রান্ত বলেই সন্দেহ করছেন। গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে সৌদি আরবে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেও শত বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতীয় পাইলটের এমন বীরত্ব গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *