ছোট পেট্রোল গাড়ির জন্য বড় ধাক্কা! কেন্দ্রের নতুন CAFE-3 নিয়মে কী বদল এল জানলে চমকে যাবেন

দেশের গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির জন্য নতুন কর্পোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি (CAFE-3) নিয়মের বিজ্ঞপ্তি জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হতে চলা এবং ২০৩২ সালের মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকা এই নতুন নিয়মে ছোট পেট্রোল গাড়ির জন্য আলাদা করে কোনো ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়নি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই অটোমোবাইল মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।
CAFE-3 নিয়মে কী পরিবর্তন এল? এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৯০৯ কেজি পর্যন্ত ওজনের পেট্রোল গাড়িগুলির ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ৩ গ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নির্গমনের আলাদা ছাড় দেওয়ার একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে একাধিক বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে সেই বিশেষ ছাড় বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর পরিবর্তে গাড়ি নির্মাতাদের পুরো ফ্লিটের (Fleet) গড় কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের সীমা নির্ধারণের ফর্মুলায় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। খসড়ায় যেখানে রেফারেন্স ভেহিক্যাল ওয়েট ১১৭০ কেজি ধরা হয়েছিল, চূড়ান্ত নিয়মে তা বাড়িয়ে ১২২৯ কেজি করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক হালকা গাড়িগুলি কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেলেও ভারী গাড়িগুলির ক্ষেত্রে নির্গমনের সীমা আরও কঠোর করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৯০৯ কেজি ওজনের গাড়ির ক্ষেত্রে FY28 নির্গমনের সীমা চূড়ান্ত ফর্মুলায় প্রায় ৮২.৮ গ্রাম CO2 প্রতি কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) জন্য বড় সুবিধা বা ‘সুপার-ক্রেডিট’: নতুন CAFE-3 নীতিতে দূষণমুক্ত বা ক্লিনার ভেহিক্যালগুলির জন্য বিশেষ ‘সুপার-ক্রেডিট’ মেকানিজম রাখা হয়েছে। যার জেরে একটি ব্যাটারি ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (BEV) বা রেঞ্জ-এক্সটেন্ডেড ইলেকট্রিক গাড়িকে ফ্লিট নির্গমনের হিসেব করার সময় তিনটি গাড়ি হিসেবে গণ্য করা হবে (3x factor)। অর্থাৎ স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, আগামী দিনে গাড়ি বাজারের অভিমুখ পুরোপুরি ইলেকট্রিক ও পরিবেশবান্ধব যানবাহনের দিকেই ঘুরিয়ে দিতে চাইছে কেন্দ্র।