পড়ালেখার কোনো শেষ নেই: ৭৪ বছর বয়সে ইগনু থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নাম তুললেন এই প্রবীণ

পড়ালেখা আর জ্ঞানার্জনের যে কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা হয় না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন ৭৫ বছর বয়সী কৃষ্ণ কুমার গুপ্ত। গত বছর, ৭৪ বছর বয়সে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (ইগনু) থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করে তিনি এক বিরল বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্ব এবার স্বীকৃতি পেল বিশ্বমঞ্চে।
সম্প্রতি গোল্ডেন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিবিডব্লিউআর)-এর পক্ষ থেকে কৃষ্ণ কুমার গুপ্তকে “সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম সম্পন্নকারী সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি” হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডে ভূষিত করা হয়েছে। পড়াশোনার প্রতি তাঁর আজীবন নিষ্ঠা এবং সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তাঁকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘সার্টিফিকেট অফ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সে পা রাখা কৃষ্ণ কুমার গুপ্তের এই সাফল্য গোটা দেশের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
ইগনু থেকে সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য কীর্তি
ইগনু-র স্কুল অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক থেকে সমাজকর্মে এমএ ডিগ্রি অর্জনকারী কৃষ্ণ কুমার গুপ্ত প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রবীণ ছাত্র। জীবনের এই পর্যায়ে এসেও শিক্ষার প্রতি তাঁর এই অদম্য স্পৃহা তাক লাগিয়ে দিয়েছে বহুজনকে। ইগনু-র উপাচার্য অধ্যাপক উমা কাঞ্জিলাল সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাঁর এই অর্জন প্রশংসিত হয়েছে।
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, যুব সমাজ গঠনেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (এনএসএস)-এর প্রতিষ্ঠাতা পর্বের প্রথম সারির স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৬৭-৬৯ সালের দিকে যখন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজে এনএসএস চালু হয়, তখন তিনি এর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সম্প্রতি যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব বিষয়ক বিভাগের (এনএসএস শাখা) পক্ষ থেকেও তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছে।
নিজের এই বিশ্বরেকর্ড ও সাফল্যের পেছনে ইগনু-র অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন কৃষ্ণ কুমার গুপ্ত। তাঁর এই অসামান্য যাত্রা প্রমাণ করে যে, মনের জোর আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কখনই এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারে না।