১৩৫ বছরের প্রাচীন সরকারি লাইব্রেরি ভাঙার মুখে! সাড়ে আট লক্ষ অমূল্য বই ও নথি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আধুনিকীকরণের জেরে ইতিহাসের এক বিশাল অংশ বর্তমানে চরম সঙ্কটের মুখে পড়েছে। দিল্লির বিখ্যাত শাস্ত্রী ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি গ্রন্থাগার তথা ১৩৫ বছরের পুরোনো ‘কেন্দ্রীয় সচিবালয় গ্রন্থাগার’ (Central Secretariat Library)। ভবন খালি করার চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হলেও এই সুবিশাল লাইব্রেরির জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো উপযুক্ত বা স্থায়ী বিকল্প জায়গার সন্ধান মেলেনি।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি: ১৮৯১ সালে কলকাতায় ‘ইম্পেরিয়াল সেক্রেটারিয়েট লাইব্রেরি’ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ রাজধানীর সঙ্গে এটি দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ ১৯৬৯ সাল থেকে শাস্ত্রী ভবনের প্রায় ৫,৫০০ বর্গমিটার এলাকার চারটি তলা জুড়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল এই গ্রন্থাগারটি। এখানে ১৭০২ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্লভ সরকারি নথি, প্রাচীন গেজেটিয়ার এবং সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি বইয়ের এক অমূল্য সংগ্রহ রয়েছে। যা শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আসা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছেও জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র।
কোথায় মিলবে সমাধান? কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ (CPWD) সমস্ত মন্ত্রক ও দপ্তরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শাস্ত্রী ভবন খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই জায়গায় ভবিষ্যতে ‘কর্তব্য ভবন’ নামে একটি নতুন সরকারি ভবন নির্মিত হবে। তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, লাইব্রেরি স্থানান্তরের জন্য বিকল্প হিসেবে যে সামান্য জায়গা (কর্তব্য ভবন-২ এ মাত্র ৩০০ বর্গমিটারের দুটি কক্ষ) প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় লাইব্রেরি প্রশাসন তা একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সাড়ে আট লক্ষেরও বেশি বই এবং ঐতিহাসিক নথি নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের পরিকাঠামো ও বিশাল জায়গার প্রয়োজন, তা এখনও বরাদ্দ না হওয়ায় বইপ্রেমী ও গবেষক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাঝে দেশের এই প্রাচীনতম জ্ঞানভাণ্ডার শেষ পর্যন্ত কোথায় জায়গা পাবে এবং তার অমূল্য সম্পদ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।