পুণ্য অর্জন করতে গিয়ে পকেট ফাঁকা আর জীবন সংশয়! কেদারনাথ যাওয়ার আগে এই ভয়ঙ্কর সত্যিটা জানেন কি?

সোশ্যাল মিডিয়ার রিলস কিংবা সিনেমার পর্দায় কেদারনাথের বরফে ঢাকা পাহাড় আর চূড়ার দৃশ্য দেখে কার না সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে? ভক্তিভরে বাবা কেদারের চরণে একটু মাথা নোয়াতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পাড়ি দেন উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি পথে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই আধ্যাত্মিক যাত্রার পথেই ওত পেতে রয়েছে এক ভয়ানক অন্ধকার দিক? পুণ্য অর্জনের আশায় গিয়ে কীভাবে পদে পদে প্রতারণা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তীর্থযাত্রীদের, তার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।
পথেই পদে পদে মৃত্যুর ঝুঁকি: কেদারনাথের মূল মন্দিরে পৌঁছতে হলে গৌরীকুণ্ড থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটারের দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরোতে হয়। আর এই পথেই শুরু হয় আসল লড়াই। হেঁটে ওঠার সময় খাড়াই রাস্তায় একদিকে যেমন অন্ধের মতো ছুটতে থাকে মালবাহী ঘোড়া, তেমনই অন্যদিকে থাকে ডুলি ও ঝুড়ির ধাক্কা খাওয়ার ভয়। একটু ভারসাম্য হারালেই সোজা খাদে পড়ার শঙ্কা। সম্প্রতি কলকাতা থেকে কেদারনাথ ঘুরে আসা বহু পুণ্যার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে মানুষকে ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ে মাথা ফেটে যেতে দেখেছেন তাঁরা। প্রশাসন বা পুলিশের কড়া নজরদারির অভাবে এই পথ যেন এক জীবন্ত ট্র্য়াপ।
প্রতারণার রমরমা ব্যবসা: শুধু শারীরিক ঝুঁকিই নয়, পদে পদে পকেট কাটার ফাঁদ পেতে বসেছে একশ্রেণির অসাধু চক্র। ঘোড়া বা ডুলির নির্দিষ্ট সরকারি ভাড়া থাকলেও, মাঝপথ থেকে রাইড নিতে গেলে যাত্রীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। মালপত্র বহনের জন্য ঝুড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধেও ইচ্ছেমতো টাকা চাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় বেশি ওজনের অজুহাত দেখিয়ে মাঝপথে মাল নামিয়ে দেওয়ার মতো হয়রানির শিকারও হন যাত্রীরা। এমনকী, মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পুরোহিতদের একাংশের দেদার টাকা আদায়ের অভিযোগও কম নয়।
সতর্ক না হলে বিপদে পড়বেন: পাহাড়ের বুকে এখন প্রচুর হোটেল, তাঁবু এবং খাবারের দোকান তৈরি হলেও অতিরিক্ত চড়া দাম পকেট ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ১ লিটার জলের বোতল থেকে শুরু করে এক প্লেট ম্যাগি—সবকিছুরই আকাশছোঁয়া দাম নেওয়া হয়। তাই আপনি যদি আগামী দিনে কেদারনাথ যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে লোকঠকানো এই চক্র এবং যাত্রাপথের ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই সম্পূর্ণ সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, ভক্তির আনন্দ নিমেষে বিষাদে বদলাতে সময় লাগবে না।