পুজোয় পাহাড়ে উপচে পড়বে ভিড়! পর্যটকদের জন্য ধামাকা উপহার, একসঙ্গে চালু হচ্ছে ৬টি নতুন টয়ট্রেন জয়রাইড

টয়ট্রেনে চেপে জানলার ধারে বসে মেঘ আর পাহাড়ের লুকোচুরি দেখার রোমাঞ্চই আলাদা। আর সেই অভিজ্ঞতাকে আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিতে উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে বড় পদক্ষেপ করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। দার্জিলিং হিমালয়ান রেল বা ডিএইচআর (DHR)-এর জনপ্রিয়তা এবং পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে পাহাড়ে একসঙ্গে ছ’টি নতুন জয়রাইড চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, হেরিটেজ রেলের ইতিহাস, স্টিম ইঞ্জিনের নস্ট্যালজিয়া এবং পাহাড়ের অতুলনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন জয়রাইডের রুট এবং সময়সূচি:
-
দার্জিলিং ও ঘুম: এই জনপ্রিয় রুটে ডিজেল ইঞ্জিন চালিত চারটি নতুন রাউন্ড ট্রিপ জয়রাইড চালু হচ্ছে। ট্রেনগুলি দার্জিলিং থেকে ছাড়বে সকাল ৯টা ২০ মিনিট ও ১১টা ২৫ মিনিটে। অন্যদিকে ঘুম স্টেশন থেকে ফিরবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট ও দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। এই যাত্রার জন্য টিকিটের প্রস্তাবিত মূল্য রাখা হয়েছে ৮০০ টাকা।
-
কার্শিয়াং ও মহানদী: এই রুটে দুটি বিশেষ রাউন্ড ট্রিপ চালু হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথমটি ‘রেড পান্ডা’—যা একটি স্টিম চালিত ট্রিপ। সকাল ৯টায় কার্শিয়াং থেকে ছেড়ে এটি ১০টায় মহানদী থেকে ফিরবে (ভাড়া ১,৫৩০ টাকা)। দ্বিতীয়টি ডিজেল চালিত রাউন্ড ট্রিপ ‘মুক্ত ধারা’, যা বিকেল ৩টে ১৫ মিনিটে কার্শিয়াং থেকে ছেড়ে বিকেল ৪টায় মহানদী থেকে ফিরবে (ভাড়া ১,০৩০ টাকা)। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্ম এবং পাগলাঝোড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
লোকোর ঘাটতি মেটাতে নিয়োগের উদ্যোগ: নতুন পরিষেবা চালুর ফলে যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে, সে দিকেও নজর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ডিএইচআরে ৭০ জন লোকো পাইলট কর্মরত থাকলেও নতুন জয়রাইড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে দেশজুড়ে অপশন কলের মাধ্যমে প্রায় ১৫ জন লোকো পাইলট বা ইঞ্জিন ক্লিনার পদে নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সব মিলিয়ে, পুজোয় পাহাড়প্রেমীদের জন্য এই জোড়া আপডেট যে ভ্রমণের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।