টিয়াপাখিরা কি সত্যিই কথা বলতে পারে? বিজ্ঞানীদের এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

যুগ যুগ ধরে মানুষের মনে একটাই ধারণাই শিকড় গেড়ে বসে ছিল—টিয়াপাখি বা তোতা পাখি বুঝি কেবল মানুষের শিখিয়ে দেওয়া দু-চারটে শব্দ বা টুকরো আওয়াজের একঘেয়ে যান্ত্রিক অনুকরণ (Mimicry) করতেই পারে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবার সেই প্রথাগত ধারণাকে একেবারে আমূল পাল্টে দিল। সাম্প্রতিক এক তাক লাগানো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, টিয়াপাখিরা কেবল মানুষের মুখস্থ বুলি আওড়েই ক্ষান্ত হয় না; বরং নিজেদের প্রজাতির মধ্যে ভাববিনিময় এবং যোগাযোগ রক্ষার জন্য তারা সত্যিই নিজেদের মতো করে কথা বলে এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব তৈরি বিশেষ শব্দ ও সংকেত ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক এক গবেষক দলের হাত ধরে প্রকাশ্যে আসা এই গবেষণাপত্রটি পাখির জগতের যোগাযোগ ব্যবস্থার এক অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অজানা অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
নিজস্ব ‘নাম’ ধরে ডাকে টিয়াপাখিরা!
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বুনো পরিবেশে অবাধে বসবাসকারী টিয়াপাখিরা নিজেদের দলের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য অত্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু শব্দ, সুর বা কম্পনযুক্ত আওয়াজ ব্যবহার করে। মানুষের যেমন নিজস্ব ভাষা, উচ্চারণশৈলী বা নাম থাকে, তেমনই ঠিক প্রতিটি টিয়াপাখির নিজস্ব একটি নির্দিষ্ট ‘ধ্বনিগত পরিচয়’ বা বিশেষ কল (Call) থাকে। বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ ডাকটিকে মানুষের নামের সঙ্গেই তুলনা করেছেন।
গবেষকরা গভীর পর্যবেক্ষণে দেখেছেন, একটি টিয়াপাখি যখন অনেক দূর থেকে তার বিশেষ সঙ্গীকে বা দলের অন্য কোনো সদস্যকে উদ্দেশ করে ডাকে, তখন সে অবিকল নির্দিষ্ট নাম ধরে ডাকার ঢঙেই সেই বিশেষ স্বরের আওয়াজটি তৈরি করে। আর মজার ব্যাপার হলো, অন্য পাশের পাখিটিও সেই নির্দিষ্ট সংকেত বা সিগনেচার কল নিখুঁতভাবে চিনে নিয়ে দ্রুত সঠিক প্রতিউত্তর দেয়।
কীভাবে কাজ করে টিয়া পাখির এই নিজস্ব ভাষা?
১. সিগনেচার কল ও নাম: গবেষণায় স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, ছোটবেলা থেকেই টিয়াপাখিরা তাদের দলগত পরিবেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু সুর ও স্বর রপ্ত করে। দলের প্রতিটি সদস্য একে অপরকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে আলাদা শব্দপ্রয়োগ বা ‘সিগনেচার কল’ ব্যবহার করে থাকে।
২. পরিস্থিতি অনুযায়ী বার্তা আদান-প্রদান: এটি কোনো অন্ধ যান্ত্রিক অনুকরণ নয়। বরং চারপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতি বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে বার্তা আদান-প্রদান করে তারা। যেমন—বিপদের কোনো আগাম সংকেত দেওয়া, নতুন খাদ্যের সন্ধান জানানো কিংবা একে অপরকে উষ্ণ অভিবাদন জানানোর জন্য তারা সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা স্বরের শব্দ তৈরি করে।
৩. সামাজিক মেলামেলা: বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, টিয়াপাখির মস্তিষ্ক সামাজিক জটিলতা এবং পারস্পরিক সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত বেশি সংবেদনশীল। আর সেই কারণেই তারা মানুষের ভাষা অবলীলায় অনুকরণ করার পাশাপাশি নিজেদের প্রজাতির মধ্যেও অত্যন্ত উন্নত স্তরের সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা নিজস্ব ‘ভাষা’ টিকিয়ে রাখতে দারুণভাবে সক্ষম।