১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ! অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ঘোষণা কেন্দ্রের!

খুব শীঘ্রই বড়সড় কড়াকড়ি আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ১৮ বছর বয়স না হলে আর ব্যবহার করা যাবে না কোনো সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এমনকী খোলা যাবে না কোনো অ্যাকাউন্টও। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের নির্দিষ্ট নিয়মবিধিতে (Intermediary Guidelines and Digital Media Ethics Code) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেই খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে কেন্দ্র। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৮ বছরের কম বয়সিদের রেজিস্ট্রেশন বা নাম নথিভুক্তিকরণ চিরতরে বন্ধ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও এমনই জোরালো আশ্বাসের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র।

সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের বড় আশ্বাস
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকান্তের বিশেষ বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল। সেই শুনানি চলাকালীনই কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট স্বীকার করেন যে, নাবালকদের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির আইনগতভাবে কোনো বৈধ চুক্তিই থাকে না। সেই কারণেই ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হলে তাদের এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলিতে যুক্ত হতে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। তবে এর পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে, পড়াশোনা বা শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটগুলিতে অভিভাবক বা বাবা-মায়ের অনুমতি সাপেক্ষে নাম রেজিস্টার করার বিশেষ ছাড় থাকতে পারে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ? মামলার নেপথ্যের আসল কারণ
‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ নামের একটি এনজিও-র করা আবেদনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে এই শুনানি চলছে। মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতের নজর আকর্ষণ করে জানান যে, বর্তমানে ফেসবুক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে মাত্র ১৩ বছর বয়সেই খুব সহজে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা যায়। অথচ দেশের ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সিদের আইনগতভাবে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। স্বাধীনভাবে কোনো চুক্তি করার আইনি অধিকার তাদের নেই।

এর ফলে দেশের কোমলমতি শিশুরা অনলাইন গ্রুমিং, সেক্সটর্শন, সাইবার বুলিং ও মারাত্মক যৌন শোষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে নাবালকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা তাঁরা চাইছেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন আইনজীবীরা। সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে অভিভাবকদের সম্মতি এবং কঠোর প্রযুক্তিগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

আইনের মারপ্যাঁচ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই মামলার শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান যে, এই বিষয়ের বেশিরভাগ অংশই ‘ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট’-এর আওতাভুক্ত। যদিও পাল্টা জবাবে আইনজীবী ফুলকা যুক্তি দেন যে, এই আইনটি এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এবং ২০২৭ সালের আগে তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই অবিলম্বে অত্যন্ত কড়া আইনি নিয়মকানুন চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিন শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে স্পষ্ট করে দেন যে, আইন বা নিয়মকে শুধু কাগজের নির্দেশিকা আকারে রাখলে কোনো লাভ হবে না। সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলির নিজস্ব সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে তুলতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের এই নজরদারির ফলে সমস্ত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা ও সিকিউরিটি প্রোটোকলে বড়সড় বদল আনতে হতে পারে। তবে এই নতুন সংশোধনী বা নিষেধাজ্ঞা ঠিক কবে থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা ব্যবহারকারীদের ঠিক কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্র এখনও চূড়ান্ত কোনো দিনক্ষণ বা নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *