লঙ্কা চিবানোর আজব শর্ত ঘিরে রণক্ষেত্র বিগ বস বাংলা! সৃজলাকে কোলে তুলে সরালেন নিরঞ্জন, আসল সত্যিটা কী?

বিগ বস বাংলা মানেই বিনোদনপ্রেমীদের কাছে প্রতিদিনের এক নতুন চমক। সোম থেকে রবি—এই রিয়েলিটি শো-এর অন্দরে ঝগড়া, ড্রামা এবং আবেগ যেন থামার নামই নেয় না। তবে এবারের মোড় একেবারে অন্যরকম। ঘরের চার দেয়ালের গণ্ডী ছাড়িয়ে এবার প্রতিযোগীদের অন্দরে ঢুকে পড়েছে রাজনীতির কড়া উত্তাপ। তারকা লড়াইয়ের ময়দানে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জীতু কমল এবং বিশিষ্ট গায়ক দুর্নিবার সাহা। আর এই রাজনৈতিক টাস্ক ঘিরেই এখন তোলপাড় নেটপাড়া।
নীল হরিণ বনাম আগুনপাখি: লাক্সারি বাজেটের জমজমাট লড়াই
প্রতিযোগীদের লাক্সারি বাজেটের টিকিট নিশ্চিত করার জন্য বিগ বস এবার এক অভিনব রাজনৈতিক টাস্কের আয়োজন করেন। এই খেলায় বাড়িতে তৈরি হয় দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দল। একদিকে রয়েছে ‘আগুনপাখি’ দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন গায়ক দুর্নিবার সাহা। তাঁর সঙ্গে এই দলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছেন ঝিলম, তনুশ্রী এবং অনুষ্কা।
অন্যদিকে, ‘নীল হরিণ’ দলের গুরুদায়িত্ব পড়েছে অভিনেতা জীতু কমলের কাঁধে। তাঁর দলে রয়েছেন রাজবীর, মনামী এবং নন্দিনী। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা ভরত কল। পাশাপাশি, শো-এর সাধারণ জনতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন দীপেন্দু, সোনামণি, নিরঞ্জন এবং সৃজলা।
‘থাকতে সুখী আগুনপাখি’ স্লোগান তুলে ঝিলম ও দুর্নিবার যখন প্রচারের আলো কাড়তে ব্যস্ত, তখন জীতুর পক্ষে গলা ফাটিয়ে প্রচার জমাচ্ছেন মনামী, রাজবীর ও নন্দিনী। তবে এই প্রচার পর্বই শেষ পর্যন্ত এক ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেয়।
লঙ্কা-কাণ্ডে রণক্ষেত্র: সৃজলাকে কোলে তুলে সরালেন নিরঞ্জন
প্রচার চলাকালীন নীল হরিণ দলের সামনে এক অদ্ভুত শর্ত রাখেন সাধারণ জনতা দলের সৃজলা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কাঁচা লঙ্কা চিবিয়েই তবে প্রচার করতে হবে। মনামী সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে এমন আজব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজবীর। তিনি অভিযোগ করেন যে সাধারণ জনতা তাঁদের প্রতিযোগিতায় টিকতে দিতে চাইছে না। এর জবাবে সোনামণি স্পষ্ট জানান যে নীল হরিণ দল কতটা শক্তিশালী ও ধৈর্যশীল, সেটাই পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যায়। রাজবীর ও সৃজলার মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। জীতু কমল হাতজোড় করে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। রাগে ফেটে পড়ে সৃজলা বলেন, আগের সপ্তাহে কোন কাজটা ঠিক হয়েছিল? সবকিছু স্পোর্টিংলি নিতে হবে, নিজের চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছ।
এই কথা কাটাকাটির জেরে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। ক্ষিপ্ত হয়ে রাজবীর বিপক্ষ দলের পতাকা ফেলে দেন। এর পালটা হিসেবে অনুষ্কাও নীল হরিণ দলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর শুরু হয় অনুষ্কা ও তনুশ্রীর সঙ্গে রাজবীরের ধুন্ধুমার ঝগড়া। উত্তেজনার বশে রাজবীর আগুনপাখির প্রতীকের পাজল পিস সরিয়ে ফেলেন, আর তার জবাবে সৃজলা ভেঙে ফেলেন নীল হরিণ প্রতীক।
পরিস্থিতি এতটাই হিংসাত্মক হয়ে ওঠে যে সৃজলাকে আর কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরঞ্জন তাঁকে কোলে তুলে ঘটনাস্থল থেকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যান। রাজনৈতিক টাস্কের এই চরম উত্তেজনার পর শেষ পর্যন্ত কোন দল জয়ী হয় এবং লাক্সারি বাজেট কার ঝুলিতে যায়, এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দর্শকরা।