আরব সাগরে ৩০০০ কোটির ড্রাগস উদ্ধার! পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে ধরে ফেলল ভারতীয় কোস্ট গার্ড!

আরব সাগরে লাক্ষাদ্বীপের পশ্চিমে একটি দুঃসাহসী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড)। গুজরাটের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে চালানো এই অভিযানে একটি সন্দেহজনক ইরানি ধৌ বা ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জলযান আটক করা হয়েছে।
ওই জলযানের অন্দর থেকে ৫২৬ কেজি উচ্চমানের হেরোইন এবং মেথামফেটামিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক বাজারে উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে নিশ্চিত করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিখুঁত অপারেশন
গোপন সূত্রে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এরপর আরব সাগরের বুকে সন্দেহজনক জলযানটির গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি শুরু করেন উপকূলরক্ষী বাহিনীর অভিজ্ঞ জওয়ানরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে জলযানটিকে অনুসরণ করার পর ধাওয়া করে সেটিতে কৌশলগতভাবে চড়ে বসেন বাহিনী সদস্যরা।
তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে মাদকের বিশাল ভাণ্ডার। শুধু মাদক উদ্ধার করাই নয়, ওই জলযানে থাকা পাঁচ জন পাকিস্তানি নাগরিককে হাতেনাতে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
মুম্বইয়ে চলছে পরবর্তী তদন্ত
আটক করা জলযান এবং পাঁচ ক্রু সদস্যকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপদে মুম্বইয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এই বিশাল মাদক পাচারচক্রের পিছনে আন্তর্জাতিক কোনো বড় সিন্ডিকেট যুক্ত রয়েছে কি না, মাদকগুলি ঠিক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং দেশের কোথায় সেগুলি পাচারের পরিকল্পনা ছিল—তা খতিয়ে দেখতে একাধিক কেন্দ্রীয় ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের কোমর ভেঙে দেওয়া এবং যে কোনো ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে তাঁরা সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশবাসীকে মাদকমুক্ত ভারত উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অবিরাম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চোরাচালান ও মাদক পাচার রুখতে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। আজকের এই রেকর্ড পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।