নন্দীগ্রামে ভোটের আগেই তুলকালাম! মাঝরাতে হোটেল থেকে কংগ্রেস নেতাদের তুলে নিয়ে গেল পুলিশ?

নামে উপনির্বাচন হলেও ভোটের ফল প্রকাশের আগেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে। ভোটগ্রহণ যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সেখানকার পরিস্থিতি। ভোটের মাত্র ১৮ দিন আগে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করার পর এবার ২ কংগ্রেস নেতাকে হোটেল থেকে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
হোটেল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
প্রদেশ কংগ্রেসের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পক্ষে প্রচার চালানোর অপরাধে সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস ও মানিক ফকির নামের দুই কংগ্রেস নেতাকে চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে জোর করে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মুখ খুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, শুধুমাত্র কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে প্রচার করায় ওই দুই নেতার ওপর পুলিশি প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট যে বাংলার গণতন্ত্র আজ অত্যন্ত বিপজ্জনক এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে।
যদিও ঠিক কী কারণে ওই দুই প্রচারক ও কংগ্রেস নেতাকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হলো, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। নন্দীগ্রাম থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, মানিক ফকিরকে থানাতেই আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর।
হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেও কাটছে না উৎকণ্ঠা
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মিলন প্রধান। এর পরেই ২০০৭ সালের একটি পুরোনো মামলায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে তাঁর জামিনের আবেদন উঠলে রাজ্য সরকার তার বিরোধিতা করে। তবে আদালত সেই বিরোধিতা খারিজ করে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
হাইকোর্ট থেকে প্রার্থীর জামিন পাওয়ার খবরে যেখানে কংগ্রেস শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল, ঠিক সেই সময়েই দুই নেতার পুলিশি আটকের খবর কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রচার পর্ব। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।