আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসছেন সুইস প্রেসিডেন্ট! প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকে কোন বড় চুক্তি নিয়ে আলোচনা?

আগামী সপ্তাহে ফের ভারত সফরে আসতে পারেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন (Guy Parmelin)। এই হাইপ্রোফাইল সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রগুলিকে আরও মজবুত করতেই এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

পূর্বের বৈঠকের রেশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ যোগ দিতে নয়াদিল্লি এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট পারমেলিন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সেই সম্মেলনের ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। সেখানে দুই নেতা ভারত ও সুইজারল্যান্ডের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। এছাড়াও গত ১৬ জুন ফরাসি রাষ্ট্রে জি-৭ সামিটে যোগ দেওয়ার পথে জেনেভাতেও প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল পারমেলিনের।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সেই সফর বেশ সফল হয়েছিল। বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়া-ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন’ (EFTA) এবং ‘ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (TEPA) কার্যকর হওয়ার ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা দুই নেতাই সন্তোষের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছিলেন।

ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়

স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক অত্যন্ত সুমধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসনের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি। ভারতের জোটনিরপেক্ষ নীতি এবং সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষতার অবস্থান দুই দেশের মধ্যে এক দারুণ বোঝাপড়া তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৪ অগস্ট নয়াদিল্লিতে স্বাক্ষরিত ‘ট্রিটি অফ ফ্রেন্ডশিপ’ বা বন্ধুত্ব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন চুক্তিগুলির একটি।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পারমেলিনের এই সম্ভাব্য আসন্ন সফর ভারত ও সুইজারল্যান্ডের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *