নীরব মোদীর পিএনবি ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে বড় সাফল্য, UAE থেকে সন্দীপ মিস্ত্রীকে ভারতে ফেরাল সিবিআই

পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) জালিয়াতি মামলায় বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) থেকে মূল অভিযুক্ত সন্দীপ মিস্ত্রিকে ভারতে প্রত্যর্পণ করানো হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতেই তাঁকে মুম্বইয়ে আনা হয় এবং আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে সন্দীপ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে?

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নীরব মোদির সঙ্গে যুক্ত এই বিশাল অঙ্কের ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় মুম্বইয়ের ব্যাঙ্ক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফ্রড ব্রাঞ্চ (BSFB) সন্দীপ মিস্ত্রিকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে ভুয়ো লেনদেন দেখিয়ে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সংযোগ রক্ষা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এই মিস্ত্রি। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা এমন সব গোপন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতেন যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চ্যাট মুছে ফেলত। পাশাপাশি, হিরে, সোনা ও মুক্তার গয়না আমদানি-রপ্তানির ভুয়ো বাণিজ্য সাজানোর জন্য জাল নথি তৈরিতেও তিনি সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন।

ডামি ডিরেক্টরদের উপর নির্যাতন ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট কাণ্ড

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিদেশে নথিভুক্ত বিভিন্ন সংস্থার নামমাত্র বা ডামি পরিচালক (Dummy Director)-দের নানাভাবে ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে সন্দীপের বিরুদ্ধে। তাঁদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা এবং আসল মালিকদের আড়ালে রেখে ভুয়ো নথিতে সই করতে বাধ্য করা হতো। শুধু তাই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা ওই ভুয়ো সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়ার নেপথ্যেও তাঁর প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় উপযুক্ত আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই।

কীভাবে হল এই প্রত্যাবর্তন?

সিবিআইয়ের বিশেষ অনুরোধে চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই মাসে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সন্দীপ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। সিবিআই জানিয়েছে, ইন্টারপোল চ্যানেলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিগত কয়েক বছরে এই নিয়ে ১৭৫ জনেরও বেশি পলাতক অপরাধীকে সফলভাবে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *