কোচিংয়ে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে আর ফেরা হল না! ১৫ বছরের স্কুল টপারের দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

উত্তর প্রদেশের গোরখপুরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক ১৫ বছর বয়সী স্কুল টপার ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিলুয়াতালের একটি পুকুর থেকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ ওই ছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ওই ছাত্রের নাম প্রিন্স নিশাদ। সে স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির সেরা ছাত্র ছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল প্রিন্স। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। গভীর রাত পর্যন্ত ছেলের কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের লোকজন চিন্তায় পড়ে যান। তাঁরা প্রিন্সের বন্ধু এবং কোচিং সেন্টারে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান পাননি।
এরপর বাধ্য হয়ে প্রিন্সের বাবা চিলুয়াতাল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ছাত্রটির মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (CDD) এবং শেষ লোকেশন ট্র্যাক করে তদন্ত শুরু হয়।
পিপিগঞ্জে মিলল শেষ লোকেশন
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে যে, প্রিন্সের মোবাইলের শেষ অবস্থান ছিল পিপিগঞ্জ এলাকায়। এর পরেই তার ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ওই এলাকার বিভিন্ন রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করে। অবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ খবর পায় যে, চিলুয়াতাল এলাকায় একটি পুকুরে এক যুবকের মৃতদেহ ভাসছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে এবং তা প্রিন্স নিশাদের বলেই শনাক্ত করে। এর পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি বিআরডি মেডিকেল কলেজে পাঠায়।
পরিবারের বিক্ষোভ ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়ে প্রিন্সের পরিবার। ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে এসে পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। পরিবারের দাবি, নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, প্রেমের জেরে বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁদের মেধাবী ছেলেকে খুন করা হয়েছে। পুলিশি তরফ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই নৃশংস মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ।