ব্রেন ডেড ব্যক্তির অঙ্গদানে এল বড় সাফল্য! বিমানবাহিনীর সাহায্যে চণ্ডীগড় থেকে অঙ্গ এনে জীবন বাঁচল রোগীর

দেশের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক সাফল্যের অধ্যায়। দিল্লির বিখ্যাত বর্দ্ধমান মহাবীর মেডিকেল কলেজ (VMMC) এবং সফদরজং হাসপাতালে এই প্রথম সফলভাবে সম্পন্ন হলো দ্বৈত কিডনি প্রতিস্থাপন (Dual Kidney Transplant)। চিকিৎসকদের পরিভাষায়, একই মৃত দাতার দুটি কিডনি যখন একজন জটিল রোগীর দেহে একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হয়, তাকেই দ্বৈত কিডনি প্রতিস্থাপন বলা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ কোনো হাসপাতালে এমন জটিল অস্ত্রোপচার এই প্রথমবার করা হলো।
ঠিক কীভাবে সম্ভব হলো এই মেগা সার্জারি?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে চণ্ডী মন্দিরের কমান্ড হাসপাতালে ৬২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ব্রেন ডেড ঘোষণা করা হয়। বয়স ও শারীরিক অন্যান্য বিষয়ের কারণে তাঁকে একজন ‘প্রান্তিক দাতা’ (Marginal Donor) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এই ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর শরীর বাঁচাতে চিকিৎসকরা একটির বদলে দুটি কিডনিই একসঙ্গে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের উদার সম্মতির পরেই শুরু হয় অঙ্গদানের প্রক্রিয়া। অঙ্গগুলি দ্রুত দিল্লিতে পরিবহন করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয় ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) ওয়েস্টার্ন কমান্ড। দাতার যকৃতটি (Liver) নয়াদিল্লির আর্মি হাসপাতালে দান করা হলেও, দুটি কিডনি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত সফদরজং হাসপাতালে পাঠানো হয়।
যে চিকিৎসকদের মুকুটে জুড়ল নতুন সফলতার পালক
ডাঃ পবন বাসুদেবের নেতৃত্বাধীন একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি বা বহু-বিভাগীয় দল এই জটিল অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই দলে ডাঃ পবন ছাড়াও ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ নীরজ কুমার, ডাঃ সন্দীপ কুমার এবং ডাঃ গৌরব বশিষ্ট।
চিকিৎসক মহলের মতে, দেশে যখন প্রতিনিয়ত অঙ্গের মারাত্মক সংকট দেখা দিচ্ছে, তখন একজন দাতার দুটি কিডনিই দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারলে কিডনি বিকলে আক্রান্ত বহু মুমূর্ষু রোগীর নতুন জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে। সফদরজং হাসপাতালের এই অনন্য চিকিৎসাকৃতি আগামী দিনে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।