রামলীলার হাতি হঠাৎ ‘বেহুঁশ’! গভীর জলে নেমে যা কাণ্ড ঘটাল, চোখ কপালে তুলবে সবার

বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী রামলীলা এবং তার আকর্ষণ যেন একে অপরের পরিপূরক। আর সেই রামলীলার জন্যই আজমগড় থেকে আনা হয়েছিল একটি হাতিকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই বিশালাকার হাতিটির আকস্মিক ও খামখেয়ালি আচরণে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর রামনগরে। খিদে না মেলায় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পম্পা সরোবরের গভীর জলে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটাল হাতিটি, যা দেখে মুহূর্তের মধ্যে তটস্থ হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষ ও আয়োজকরা।
পম্পা সরোবরের জলে ‘ধনরাজ’-এর রোমহর্ষক কাণ্ড
প্রতি বছরের মতো এবারও রামনগরের রামলীলায় অংশ নিতে বাইরে থেকে হাতি আনা হয়েছে। যার মধ্যে ‘ধনরাজ’ নামের হাতিটিকে মঙ্গলবার সকালে স্নান করানোর জন্য পঞ্চবটীর পম্পা সরোবরের তীরে নিয়ে গিয়েছিলেন তার কোচম্যান বা মাহুত। জলে নামার পর প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, কিছুক্ষণ বাদেই অদ্ভুত আচরণ শুরু করে হাতিটি। ধীরে ধীরে সে আরও গভীরে জলের মাঝবরাবর এগিয়ে যেতে শুরু করে।
এদিকে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ধনরাজ জল থেকে না ফেরায় চারপাশের মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। সরোবরের তীরে ভিড় জমতে শুরু করে উৎসুক জনতার। অবস্থা বেগতিক দেখে কোচম্যান নিজেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সাঁতরে হাতিটির কাছে পৌঁছান। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে তাকে জল থেকে তীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
আসল রহস্য লুকিয়ে ছিল পেটের টানে!
কিন্তু কেন এমন হঠাৎ ক্ষেপে গেল ধনরাজ? তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত হাতিটিকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার জ্বালায় মেজাজ হারিয়ে সে শেকল ছিঁড়ে সোজা পম্পা সরোবরের দিকে দৌড় দেয় এবং গভীর জলে নেমে পড়ে।
প্রধান মাহুত ইজরায়েলসহ অন্যান্য মাহুতরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ছুটে যান এবং হাতিটিকে শান্ত করার চেষ্টা শুরু করেন। নাছোড়বান্দা ধনরাজকে বোঝাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অবশেষে প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে বুঝিয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে জল থেকে ওপরে তুলে আনতে সক্ষম হন মাহুতরা।
বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা
হাতিটি যখন গভীর জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময়ে পম্পা সরোবরের চারপাশে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। উৎসুক জনতা যেভাবে ভিড় জমিয়েছিল, তাতে হাতিটি সামান্য ক্ষিপ্ত হয়ে ভিড়ের দিকে এগিয়ে এলে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।
এই ঘটনার পরই জনবহুল পর্যটন কেন্দ্র এবং রামনগরের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে হাতি বা বন্যপ্রাণী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে হাতি স্নান করানোর সময় বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, প্রশিক্ষিত মাহুতদের উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষ যাতে হাতি থেকে পর্যাপ্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে, ভবিষ্যতে সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।