১ অক্টোবর থেকে রান্নার গ্যাসে বড় ধাক্কা! এই কাজ না করলে চিরতরে বন্ধ হবে ভর্তুকি?

পুজোর মরশুমের ঠিক আগে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া বার্তা দিল কেন্দ্র সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং এবং ভর্তুকির নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাস পেতে হলে গ্রাহকদের আবশ্যিকভভাবে বায়োমেট্রিক আধার অথেনটিকেশন বা যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশের কোটি কোটি গ্রাহক এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলেও এখনও একটি বড় অংশ বাকি রয়েছে। সময়সীমা ফুরিয়ে আসার আগে সমস্ত গ্রাহককে এই কাজ সেরে ফেলার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম না মানলে কী হবে? সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে যদি কোনো গ্রাহক বায়োমেট্রিক আধার যাচাইকরণ করাতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁরা আর কোনোভাবেই এলপিজি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। যদি কেউ ইতিমধ্যেই ভর্তুকি পেয়ে থাকেন, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনার গ্যাস সংযোগ কেটে দেওয়া হবে; যাঁরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন না, তাঁদের কেবল বাজারদর বা পুরো দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হবে। মূলত ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের কালোবাজারি রোধ এবং সঠিক ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাঁদের ইতিমধ্যেই যাচাইকরণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নতুন করে আর কিছু করার প্রয়োজন নেই।

কীভাবে সারবেন আধার যাচাইকরণ? গ্রাহকদের সুবিধার জন্য এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার একাধিক সহজ উপায় রাখা হয়েছে:

  • ডেলিভারি বয়ের মাধ্যমে: গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার সময় ডেলিভারি কর্মীর মাধ্যমেই বাড়িতে বসে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ করিয়ে নেওয়া সম্ভব।

  • ডিস্ট্রিবিউটর অফিস: সরাসরি নিজের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়েও এই কাজ করিয়ে নিতে পারেন।

  • মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে: ঘরে বসেই তেল বিতরণকারী সংস্থার মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এটি করা যায়। ইন্ডেন (Indan) গ্রাহকরা Indian Oil ONE, ভারত গ্যাস (Bharat Gas) গ্রাহকরা Hello BPCL এবং এইচপি গ্যাস (HP Gas) গ্রাহকরা HP PAY অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই এই আধার অথেনটিকেশন সম্পন্ন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এই বিশেষ অভিযানটি গত বছর শুরু হলেও এর শেষ তারিখ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে আগামী ১ অক্টোবরের আগে এই বাধ্যতামূলক কাজটি সেরে না ফেললে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ গ্রাহকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *