“১০ হাজারের 5G ফোন এখন ২০ হাজার!”-হু হু করে দাম বাড়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী?

এক সময় ১০ হাজার টাকার আশপাশেই দুর্দান্ত সব 5G স্মার্টফোন মিলত। বড় ব্যাটারি, ভালো ক্যামেরা, পর্যাপ্ত র্যাম ও স্টোরেজের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পারফরম্যান্স— সবটাই পকেটের নাগালে ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এখন নতুন একটি ভালো 5G ফোন কিনতে গেলে কম করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খসাতে হচ্ছে। শুধু দাম বাড়াই নয়, বাজারে উপলব্ধ ফোনগুলির ফিচার এবং কনফিগারেশনেও বড়সড় পরিবর্তন আসছে। হঠাৎ কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা।
স্মার্টফোনের দাম বাড়ার নেপথ্যে আসল কারণ কী? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের দাম বৃদ্ধির পিছনে মূল ভূমিকা পালন করছে যন্ত্রাংশ তৈরির খরচ, বিশেষ করে মেমোরির দাম বৃদ্ধি। ফোন তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো DRAM এবং NAND ফ্ল্যাশ মেমোরি। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই ধরনের মেমোরির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ফোন তৈরির সামগ্রিক খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, কম দামের স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে বিল অফ ম্যাটেরিয়ালস (BOM) বা যন্ত্রাংশ তৈরির খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা কতখানি? স্মার্টফোনের মেমোরি দাম বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। বর্তমানে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজনের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংস্থাগুলি AI পরিষেবা চালুর জন্য বিশাল বড় ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। এই সার্ভারগুলির জন্য বিপুল পরিমাণ মেমোরি, বিশেষ করে হাই ব্যান্ডউইথ মেমোরি (HBM)-এর চাহিদা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এর ফলে মেমোরি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে সাধারণ স্মার্টফোনের বাজার ছাপিয়ে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
তবে কি সংস্থাগুলি AI-এর অজুহাতে বেশি দাম নিচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরির দাম বৃদ্ধি একটি বাস্তব সমস্যা হলেও, প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরো বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয় না। এর পিছনে কোম্পানিগুলির নিজস্ব মুনাফা, বাজারে প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায়িক কৌশলও বড় ভূমিকা নেয়।
সবচেয়ে বেশি চাপে ১৫ হাজারের কম দামের বাজার দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাজেট সেগমেন্টে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতে সামগ্রিক স্মার্টফোনের শিপমেন্ট কিছুটা কমলেও, ১৫ হাজার টাকার কম দামের ফোনের ক্ষেত্রে এই পতন প্রায় ৪৫ শতাংশ। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বাজেট ফোন কেনা এখন বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দামি ফোনের ক্ষেত্রে ইএমআই (EMI)-এর সুবিধা থাকায় কিস্তিতে টাকা মেটানো সহজ হয়, কিন্তু স্বল্প বাজেটের ক্রেতাদের পক্ষে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত জোগাড় করা বেশ কঠিন।
সামনে কি তবে আর সস্তা ফোন মিলবে না? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই পুরোপুরি আশা ছাড়ার কারণ নেই। ভারতের বাজারে বাজেট স্মার্টফোনের বিপুল চাহিদা রয়েছে, তাই সংস্থাগুলি এই সেগমেন্ট একেবারে ছেড়ে দিতে পারে না। তবে আগামী দিনে এই বাজেটে ভালো ফিচারের ফোন পেতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত আপস করতে হতে পারে। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অফার, এক্সচেঞ্জ বোনাস কিংবা পুরনো মডেলের দাম হ্রাসের মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন ক্রেতারা।