মমতার ‘সবুজসাথী’ এবার অতীত! বিজেপি সরকারের মেগা প্রকল্পের নাম বদলে হল ‘সারথি’, ক্ষোভে ফুটছে তৃণমূল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলের অভিযোগে বরাবর সোচ্চার হয়েছিল বিজেপি। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার আসীন, আর সেই নাম বদলের সংস্কৃতিই এবার বজায় রাখার অভিযোগ উঠল নতুন শাসকদলের বিরুদ্ধে। এর আগে মমতার আমলের ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প শুভেন্দু অধিকারীর শাসনে ‘কন্যারত্ন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও এক জনপ্রিয় প্রকল্প—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার সুপরিচিত ‘সবুজসাথী’র নাম বদলে রাখা হলো ‘সারথি’। আর এই নাম বদল ঘিরেই বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
কী বলছেন কুণাল ঘোষ?
সবুজসাথীর নাম পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বিজেপি সরকারের চক্ষুলজ্জাও নেই? মমতা ব্যানার্জি ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাইকেলের ‘সবুজসাথী’ প্রকল্প শুরু করেছিলেন। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী তার উপকার পেয়েছে। দূরের স্কুলে যেতে কত সুবিধা। আজ হঠাৎ ‘সারথি’? বিজ্ঞাপনের ভাষা দেখুন—নতুন গতি! মমতাদির তৈরি করা স্কিম নিয়ে বিজেপির বড় বড় কথা। মমতাদি মানুষের স্বার্থে কাজ করেছেন, মেনে নিক বিজেপি।” পরে সংবাদমাধ্যমে তিনি আরও বলেন, এভাবেই একে একে বিভিন্ন প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হচ্ছে। মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাজ ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলিকে সুকৌশলে উপেক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ করছে বর্তমান সরকার।
পাল্টা জবাব বিজেপির:
তৃণমূল নেতার এই সমালোচনার তীব্র জবাব দিতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক সজল ঘোষ কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পালটা দাবি, প্রকল্পটি আদতে কোনও ব্যক্তি বিশেষের নয়, এটি ছিল রাজ্য সরকারের প্রকল্প। সাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার যদি জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করতে চায়, তাতে আইনগত বা সাংবিধানিকভাবে কোনও বাধা নেই। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করাই এখন বিরোধীদের একমাত্র কাজ বলে তোপ দেগেছেন তিনি।
আজ থেকেই নতুন রূপে ‘সারথি’:
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই আজ, মঙ্গলবার হাওড়ায় সাইকেল বিতরণের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ থেকেই রাজ্যে একেবারে নতুন মোড়কে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এই ‘সারথি’ প্রকল্প। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল প্রদান করবে রাজ্য সরকার। এই বিশাল প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা। তবে এত বড় জনমুখী উদ্যোগের প্রাক্কালেও নামের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের দড়িটানাটানিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।