পুরনো সরকারকে তুলোধনা করে বাংলার শিল্পে বিরাট বিপ্লবের ডাক! বড় চমক দিতে আসছে ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’

দেশের শিল্প ও জ্বালানি মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় যোগ হতে চলেছে। রাজ্যে বসতে চলেছে আন্তর্জাতিক স্তরের মেগা আসর ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’ বা ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৭’। আগামী বছরের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতার আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গলে এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই বড় ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি।
বিনিয়োগের জোয়ার ও মেগা আসরের প্রস্তুতি
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সদিচ্ছার কারণেই যে এই মেগা ইভেন্ট বাংলায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে জানান তিনি। রাজ্যের ১১ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গাপুজোর পর থেকেই এই সম্মেলন সফল করতে প্রতিটি বিভাগকে নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এই সম্মেলনের বিশালতার দিকটি তুলে ধরে জানান, ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে ৩৫ হাজার প্রতিনিধি নিয়ে এই ইভেন্ট শুরু হয়েছিল, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ৭৫ হাজারে পৌঁছবে। ১২০টি দেশ থেকে প্রতিনিধি, ৭০০ জন এগজিবিটর এবং ৫৫০ জনেরও বেশি গ্লোবাল এক্সপার্ট এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। এটি কেবল কোনো সর্বভারতীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি নিখাদ গ্লোবাল ইভেন্ট হতে চলেছে।
অশোকনগরে তেল উত্তোলন ও ওএনজিসির হাজার কোটির বিনিয়োগ
পেট্রোলিয়াম ক্ষেত্রে রাজ্যের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যেখানে অত্যন্ত সফলভাবে তেল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, হলদিয়া রিফাইনারিতে নতুন ইউনিট স্থাপন এবং সুন্দরবিনে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের উদ্যোগে লক্ষাধিক ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, অশোকনগরে ইতিমধ্যেই এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে ওএনজিসি। রাজ্য সরকারের বর্তমান ইতিবাচক সহযোগিতার ফলে পেট্রোলিয়াম ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শহরজুড়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডোমেস্টিক গ্যাস সরবরাহ বা সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
পুরনো সরকারের নীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ
উন্নয়ন ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের নেতিবাচক মানসিকতার জন্যই অতীতে রাজ্যে ‘উজালা থ্রি’-র মতো জনমুখী প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রকে পাথেয় করে এবং ‘অতিথি দেব ভব’ নীতি মেনে শিল্পপতিদের সবরকম সহায়তা করতে বদ্ধপরিকর।
সবমিলিয়ে, আগামী দিনে পেট্রোলিয়াম সেক্টরে এই মেগা বিনিয়োগ বাংলার পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং কলকাতাকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে ডাবল ইঞ্জিন সরকার একযোগে কাজ করে চলেছে বলেই এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।