মুখের ঘা ২ সপ্তাহেও সারছে না? সাধারণ আলসার ভেবে ভুল করলে বড় বিপদ, হতে পারে ক্যানসার!

মুখের ভেতরে ছোটখাটো ঘা হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। জিভে কামড় লাগা, ভিটামিনের অভাব কিংবা গরম খাবার খাওয়ার ফলে প্রায়ই এই যন্ত্রণাদায়ক ঘা দেখা দেয়। সাধারণ নিয়ম মেনে জেল লাগানো বা নুন জলে কুলকুচি করলেই ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেই ঘা সেরেও যায়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন সেই ঘা দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও মিলিয়ে যায় না। সাধারণ আলসার ভেবে এই বিষয়টিকে অনেকেই অবহেলা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মুখের ঘা মারাত্মক রোগ মুখের ক্যানসারের প্রথম ও অন্যতম প্রধান সংকেত হতে পারে।

সাধারণ আলসার সাধারণত গোলাকার বা ডিম্বাকার হয়ে থাকে। এর মাঝখানটা সাদা বা হলুদ রঙের হয় এবং চারপাশটা থাকে লাল। এই ধরনের ঘায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বিশেষ করে ঝাল বা টক জাতীয় খাবার খেলে তীব্র জ্বালা করে। সাধারণত জিভের নিচে, ঠোঁটের ভেতরে বা গালের নরম অংশে এই সমস্যা দেখা দেয় এবং কোনো ওষুধ ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে তা পুরোপুরি সেরে যায়।

অন্যদিকে, ক্যানসারের ঘায়ের লক্ষণ অনেকটাই আলাদা। যদি কোনো ঘা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একই জায়গায় স্থায়ী হয়, তবে তা নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। প্রথমত, সাধারণ আলসারে তীব্র ব্যথা থাকলেও ক্যানসারের ঘা প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথাহীন হতে পারে এবং ধীরে ধীরে মাংসপিণ্ডের মতো বড় আকার ধারণ করে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ ঘা নরম প্রকৃতির হলেও ক্যানসারের ঘায়ের কিনারা বেশ শক্ত, মোটা এবং খাঁজকাটা হয়। সামান্য ছোঁয়াতেই এই ধরনের ঘা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হতে পারে।

এছাড়া জিভ, মাড়ি বা গালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সাদা বা লাল ছোপ থাকলে, যা ঘষলেও উঠতে চায় না, তা ক্যানসারের পূর্বল লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। মুখ থেকে অকারণে রক্তপাত, গিলতে বা চিবাতে সমস্যা হওয়া, ঘাড়ে কোনো পিণ্ড তৈরি হওয়া, মুখ বা জিভের অংশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোও অত্যন্ত উদ্বেগের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নিয়মিত তামাক, জর্দা, গুটখা, খৈনি, পান-সুপারি বা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। পাশাপাশি, ভাঙা দাঁত বা খারাপ ডেনচার মুখের একই জায়গায় বারবার ঘষা খেলেও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই মুখের যে কোনো ঘা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে ইএনটি বা ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকরা বায়োপসি করে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে মুখের ক্যানসারের মতো রোগ থেকেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো ধরনের শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *