নো কস্ট ইএমআই-এর নামে বড় ধোঁকাবাজি? ক্যাশ নাকি ক্রেডিট কার্ড—পুজোর বাজারে কোন পেমেন্টে আসল সাশ্রয়?

উৎসবের মরশুম মানেই অনলাইন ও অফলাইনে ছাড়ের ছড়াছড়ি। পছন্দের গ্যাজেট থেকে শুরু করে পুজোর জামাকাপড়—সবকিছু কিনতেই এখন বিভিন্ন ক্যাশব্যাক ও ব্যাঙ্ক অফারের লোভনীয় বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। কিন্তু পণ্য কেনার সময় শুধু ডিসকাউন্ট দেখলেই কি চলে? কোন পেমেন্ট মেথড ব্যবহার করলে শেষ পর্যন্ত আপনার পকেট থেকে কত টাকা খরচ হচ্ছে, সে হিসেব কি কষে দেখেছেন? ক্যাশ, ক্রেডিট কার্ড এবং ‘নো কস্ট ইএমআই’—এই তিন পদ্ধতির খরচের হিসাব কিন্তু একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা।
ক্যাশ বা ইউপিআই পেমেন্ট: কতটা সুবিধেজনক?
ইউপিআই বা ক্যাশের মাধ্যমে পুরো টাকা একবারে মিটিয়ে দিলে ইএমআই বা বাড়তি বিলের কোনো ঝঞ্ঝাট থাকে না। তবে এই পদ্ধতিতে বড় অসুবিধা হলো, অনেক সময় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যে বিশেষ ফেস্টিভ ডিসকাউন্ট বা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়, তা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, একবারে বড় অঙ্কের টাকা বেরিয়ে গেলে জরুরি প্রয়োজনের জন্য হাতে ক্যাশ বা লিক্যুইডিটি কমে যায়। তাই পকেটে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে এই পথ সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে।
ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা ও ঝুঁকি
উৎসবের বাজারে অধিকাংশ ব্যাঙ্ক নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডে বড় ছাড় ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে থাকে। যেমন, ৫০ হাজার টাকার কেনাকাটায় ৫ শতাংশ ছাড় মিললে দাম সোজা কমে হতে পারে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ক্যাশ ফ্লো-র দিক থেকেও এটি সুবিধাজনক, কারণ বিলের ডিউ ডেট পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ সময় হাতে পাওয়া যায়।
তবে এর সবচেয়ে বড় শর্ত হলো, নির্দিষ্ট ডেটের মধ্যে পুরো বিল মিটিয়ে দেওয়া। যদি কেউ আংশিক পেমেন্ট করেন, তবে বাকি টাকার ওপর বার্ষিক ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত চড়া হারে সুদ বসে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিসকাউন্টের লাভ তো দূরে থাক, উল্টে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
‘নো কস্ট ইএমআই’ কি আদ আদতে নিখরচায়?
‘নো কস্ট ইএমআই’ নামটা শুনলে মনে হতে পারে যে এতে অতিরিক্ত কোনো টাকাই দিতে হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে কিছু লুকনো খরচ থাকে। যেমন—প্রসেসিং ফি এবং তার ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি (GST)।
উদাহরণস্বরূপ, ৫০ হাজার টাকার কোনো পণ্যে ১৯৯ থেকে ২৯৯ টাকা প্রসেসিং ফি এবং জিএসটি যোগ হলে শেষ পর্যন্ত আসল খরচ ৫০ হাজার টাকার বেশ কিছুটা উপরে চলে যায়। অর্থাৎ, নামের মধ্যে ‘নো কস্ট’ থাকলেও আদতে অতিরিক্ত খরচ শূন্য হয় না।
আপনার জন্য কোনটা সেরা?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ফেস্টিভ সিজনে শুধুমাত্র মুখের ছাড় দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল। ব্যাঙ্কের অফার, প্রসেসিং ফি, জিএসটি, রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং কার্ডের সুদ—সব মিলিয়ে আসল খরচ কত পড়ছে, তা আগে কষে নেওয়া জরুরি। হাতে পর্যাপ্ত নগদ টাকা থাকলে এবং সময়মতো বিল মেটানোর অভ্যাস থাকলে কার্ডের ছাড় নিয়ে একবারে পেমেন্ট করা ভালো। অন্যদিকে, বড় অঙ্কের কেনাকাটায় একবারে চাপ এড়াতে চাইলে সমস্ত দিক যাচাই করে তবেই নো কস্ট ইএমআই বেছে নেওয়া উচিত।