১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেই দ্বিগুণ! পোস্ট অফিসের সেরা ৭ স্কিমের চমকে দেওয়া সুদের হার

দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় এবং নিশ্চিত রিটার্নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হলো পোস্ট অফিস। বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম প্রান্তিকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করেনি কেন্দ্র। ফলে বাজারে এখনও আগের মতোই আকর্ষণীয় সুদের হার মিলছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে। টাকা দ্বিগুণ করা থেকে শুরু করে প্রতি মাসে আয়ের ব্যবস্থা—প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সঠিক স্কিম বেছে নেওয়াটাই আসল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বেশি সুদ দিচ্ছে বলেই কোনও প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বরং বিনিয়োগের আসল উদ্দেশ্য কী, তা আগে ঠিক করা দরকার। জমানো টাকা দ্বিগুণ করতে চাইলে এক রকম পরিকল্পনা করতে হবে, আবার নিয়মিত মাসিক আয়ের প্রয়োজন হলে বেছে নিতে হবে অন্য পথ।
১. কিসান বিকাশ পত্র (KVP)
টাকা দ্বিগুণ করার কথা ভাবলে কিসান বিকাশ পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। এই স্কিমে টাকা বিনিয়োগ করলে ঠিক ১১৫ মাস বা ৯ বছর ৭ মাসে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। অর্থাৎ আজ ১ লাখ টাকা রাখলে মেয়াদ শেষে ২ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। ন্যূনতম ১ হাজার টাকা থেকে বিনিয়োগ শুরু করা যায় এবং এর কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। তবে বিনিয়োগের দীর্ঘ লক-ইন মেয়াদ মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
২. মাসিক আয় প্রকল্প (MIS)
যাঁদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট আয়ের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এই স্কিম দারুণ উপযোগী। বর্তমানে এই প্রকল্পে ৭.৪ শতাংশ হারে সুদ মিলছে এবং সুদের টাকা প্রতি মাসেই অ্যাকাউন্টে চলে আসে। যেমন, ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বার্ষিক ৭,৪০০ টাকা বা মাসিক প্রায় ৬১৭ টাকা সুদ পাওয়া সম্ভব। এতে ৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড রয়েছে। একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ এবং যৌথ অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়।
৩. প্রবীণ নাগরিক সঞ্চয় প্রকল্প (SCSS)
মূলধন সুরক্ষিত রেখে যাঁরা নিয়মিত ত্রৈমাসিক আয় চান, তাঁদের জন্য এটি অন্যতম সেরা বিকল্প। বর্তমানে এই স্কিমে সর্বোচ্চ ৮.২ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। স্কিমটির মেয়াদ ৫ বছর এবং ডাকঘর প্রতি তিন মাস অন্তর অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা জমা করে। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।
৪. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)
দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পিপিএফের জুড়ি মেলা ভার। বর্তমানে এই স্কিমে ৭.১ শতাংশ সুদের হার মিলছে এবং এর প্রাথমিক লক-ইন মেয়াদ ১৫ বছর। প্রতি বছর সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এতে জমা করা সম্ভব। চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে দীর্ঘমেয়াদে এটি বেশ বড় অঙ্কের ফান্ড তৈরিতে সাহায্য করে।
৫. ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)
যাঁরা ৫ বছরের জন্য এককালীন টাকা বিনিয়োগ করে নিশ্চিন্ত থাকতে চান, তাঁদের জন্য এনএসসি উপযুক্ত। বর্তমানে এই স্কিমে ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। ন্যূনতম ১ হাজার টাকা থেকে বিনিয়োগ শুরু করা যায় এবং এতেও কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই। মেয়াদ শেষে মূল টাকার সঙ্গে পুরো জমানো সুদ একসঙ্গে হাতে আসে।
৬. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
কন্যাসন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সরকার এই বিশেষ দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় প্রকল্প চালু করেছে। বর্তমানে এতে ৮.২ শতাংশ হারে আকর্ষণীয় সুদ মিলছে। বছরে ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এতে জমা করা যায়। কন্যাসন্তানের বয়স এবং অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এর মেয়াদ নির্ধারিত হয়।
৭. ৫-বছরের পোস্ট অফিস টাইম ডিপোজিট
ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের আদলেই এই টাইম ডিপোজিট স্কিম পরিচালিত হয়। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এককালীন অর্থ জমা রাখতে চাইলে এটি চমৎকার বিকল্প। বর্তমানে ৫ বছরের এই টাইম ডিপোজিটে ৭.৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে।
বিনিয়োগের আগে তাই নিজের আর্থিক লক্ষ্য এবং প্রয়োজন বুঝে সঠিক স্কিমটি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।