রাজ্যের পর্যটনে ১২ হাজার কোটির বাম্পার বিনিয়োগ! রেকর্ড কর্মসংস্থানের ঘোষণায় একলাফে বদলাচ্ছে বাংলার ভাগ্য?

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ‘ইনভেস্টর সামিট’ থেকে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করা হলো। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে জানানো হয়েছে, পর্যটন ক্ষেত্রে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে। এর হাত ধরে রাজ্যে প্রায় ২২ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আয়োজিত এই সামিটে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
পর্যটনের পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প
এদিনের মঞ্চ থেকে পর্যটনের মান বাড়াতে একাধিক নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, “স্বদেশ দর্শন স্কিমের আওতায় আধ্যাত্মিক ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য তৈরির জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে ৫৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন মিলেছে।”
পাশাপাশি, সুন্দরবন থেকে শুরু করে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং মিরিককে ফোকাস করে ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ নামক একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের থাকার সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৮০০টি নতুন সরকারি পর্যটন আবাস তৈরির পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে পুরনো আবাসগুলির আধুনিকীকরণের কাজও শুরু হবে।
জলপথ পর্যটন ও সাংস্কৃতিক উৎসবের ওপর বিশেষ জোর
জলপথ পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ১০০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার হাইব্রিড ইলেকট্রিক ফেরি নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কলকাতা, ব্যারাকপুর, চন্দননগর, হুগলি, বরানগর ও নদীয়ার বিভিন্ন এলাকায় নতুন জেটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া বাংলার নিজস্ব সাহিত্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে বিশেষ উৎসব আয়োজনের কথা ভাবছে সরকার। পৌষ মেলা কিংবা রাস মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলিকে পর্যটনের মূল স্রোতে নিয়ে আসার কাজ চলছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরকে ‘টেম্পল টাউন’ হিসেবে গড়ে তুলতে আইআইটি খড়্গপুরের সহযোগিতায় কাজ এগিয়ে চলেছে। সব মিলিয়ে, পুজোর আগে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের এই বিরাট ঘোষণা অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।