হস্তশিল্পেই লুকিয়ে কোটি টাকার ভাগ্য! মহিলাদের স্বনির্ভর করতে বঙ্গে শুরু হল যুগান্তকারী ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’

পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করল জেলা পরিষদ। বীরাঙ্গনা শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার অমর স্মৃতি ও অদম্য লড়াকু মনোভাবকে পাথেয় করে নারী ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’-র হাত ধরে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তোলাই এই বৃহৎ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক উন্নয়ন অধিকারিকের (বিডিও) অফিসে আয়োজিত এক নিবিড় কর্মশালার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপের প্রশিক্ষণ।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন
জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখার (ডিআরডিসি) আওতাধীন প্রায় ৮০ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক ক্ষমতায়নই এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তমলুক ও সংলগ্ন অঞ্চলের নিজস্ব আঞ্চলিক পণ্য যেমন— গয়নাবড়ি, কাঁসা-পিতল, পরচুলা, দোলনা, হস্তশিল্প এবং ফুলচাষকে আধুনিক বাজারের উপযোগী করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র সরাসরি সহযোগিতায় ১০০ জন মহিলাকে আধুনিক ও উন্নত মানের পাটজাত সামগ্রী তৈরির পেশাদার তালিম দেওয়া হচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে আইআইটি খড়্গপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।
দূরদর্শী রূপরেখা ও মাস্টার ট্রেইনার তৈরির পরিকল্পনা
এই প্রকল্পের রূপরেখা অত্যন্ত সুসংগঠিত। বর্তমানে প্রশিক্ষণরত এই ১০০ জন মহিলাই আগামী দিনে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ বা প্রশিক্ষক হিসেবে জেলার বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে অন্যান্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। কেবল পণ্য উৎপাদন শেখানোই নয়, বরং প্রস্তুতকৃত সামগ্রীর ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যবসা প্রসারের জন্য সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণের দ্রুত অনুমোদন সুনিশ্চিত করছে জেলা পরিষদ।
প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শনে এসে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান যে, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদাই জেলা প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মাতঙ্গিনী হাজরার শহিদ দিবসে প্রশিক্ষণার্থীদের আলিনান গ্রামে অবস্থিত তাঁর স্মৃতিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে দেশাত্মবোধ ও কাজের অনুপ্রেরণা জোগাতে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দিয়ে এই প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।