খাঁকি পরে খোদ জওয়ানেরই কারসাজি! পুলিশের চোখ এড়াতে অভিনব কায়দায় জাল নোটের কারবার, এসটিএফের জালে ৬

আইনরক্ষক নিজেই যখন আইন ভাঙার খেলায় মেতে ওঠেন, তখন আঁতকে ওঠারই কথা। বিহারের মুজফ্‌ফপুরে ঠিক এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর্দাফাঁস করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং জেলা পুলিশ। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে খোদ পুলিশের উর্দি বা খোকি পরে জাল নোটের কারবার চালাতে গিয়ে শেষরক্ষা হয়নি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশি অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েছে ৬ সদস্যের একটি আন্তঃরাজ্য জাল নোট পাচারকারী চক্র।

যেভাবে চলত জালিয়াতির ছক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুজফ্‌ফপুরের মতিপুর থানা এলাকায় অতর্কিত অভিযান চালায় পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম এক ব্যক্তি হলেন সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত হোমগার্ড জওয়ান। পুলিশের চেকিং এড়াতে এবং নিরাপদে জাল নোটের চালান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতেই সে সুকৌশলে গায়ে চড়িয়েছিল खाकी বা পুলিশের উর্দি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসটিএফের সতর্ক নজরদারি এড়াতে পারেনি সে।

কত টাকা উদ্ধার হয়েছে?

অভিযানের সময় ধৃতদের কাছ থেকে বড়সড় পরিমাণের জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • আসল বা প্রচলিত জাল নোট: উদ্ধার হয়েছে মোট ৭১,২০০ টাকার আসল চেহারার জাল নোট (যার মধ্যে ৫০০, ২০০ এবং ১০০ টাকার বান্ডিল রয়েছে)।

  • অন্যান্য নোট: এর পাশাপাশি ‘ভারতীয় মনেঞ্জরন ব্যাঙ্ক’ (Children Bank of India) লেখা মোট ১০ লক্ষ ৭ হাজার ৬০০ টাকার খেলনা নোটও উদ্ধার করা হয়েছে, যা মানুষের চোখে ধুলো দিতে ব্যবহার করা হতো।

  • অন্যান্য সামগ্রী: একটি চারচাকা গাড়ি এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ।

অপরাধের শিকড় কতদূর?

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে মো. সাবির মুজফ্‌ফপুরের মনিয়ারির বাসিন্দা এবং বাকি পাঁচজন—সুরেশ রায়, কৃষ্ণা পটেল, রাহুল সিং, সাধু সাহনি ও বীরেন্দ্র পাসোয়ান—সকলেই মোটীহরির কোটবা এলাকার বাসিন্দা। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিহারের বিভিন্ন জেলায় জাল নোটের কারবার চালিয়ে আসছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বর্তমানে ধৃতদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং তাদের অপরাধমূলক ইতিহাস খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই চক্রের মূল পান্ডা কে এবং জাল নোটের এই বিশাল চালান ঠিক কোথা থেকে আসত, তা জানতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *