ব্যাঙ্কে কি সত্যিই টানা ৫ দিন ছুটি মিলছে? ধর্মঘট স্থগিত হতেই সামনে এল আসল সত্যি!

আজ থেকে টানা তিন দিনের জন্য দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার রাতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে পুরো পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত দেশব্যাপী এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহক বড় ধরনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেলেন এবং আজ সোমবার যথারীতি খোলা রয়েছে সমস্ত ব্যাঙ্ক।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এমন কী আলোচনা হলো যার জেরে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল ইউনিয়নগুলো? পাঁচ দিন কাজ ও দুই দিনের ছুটির যে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তা কি শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়া হলো? নাকি আলোচনার মাধ্যমেই আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলো? চলুন পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া যাক।

রবিবার রাতের সেই মহাবৈঠক ও সমঝোতা

ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন বা IBA এবং ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস বা UFBU-এর মধ্যে রবিবার রাত সাড়ে ন’টায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই ধর্মঘট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও আধিকারিকদের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ মঞ্চ হলো এই UFBU। তাদের সবথেকে বড় এবং দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ব্যাঙ্কগুলিতে সপ্তাহের পাঁচ দিন কাজের দিন এবং দুই দিন (শনিবার ও রবিবার) পূর্ণ ছুটির ব্যবস্থা চালু করা হোক। এই দাবির ভিত্তিতেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এই ম্যারাথন বৈঠক হয় এবং শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করার ঘোষণা করা হয়।

কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত, তবে কি শনিবারে ছুটি মিলল?

সাতটি ব্যাঙ্ক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সব শনিবারে ছুটি প্রদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অবিলম্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সমস্ত দিক বিবেচনা করে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও গ্রাহক— উভয়ের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে।

এর পরিষ্কার অর্থ হলো, এখনই সমস্ত শনিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। কেবল এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতেই একটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

পাশাপাশি, স্কেল ৪ (Scale IV) ও তার ওপরের স্তরের ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের জন্য ‘পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ’ স্কিম বাতিলের যে দাবি ইউনিয়নগুলি তুলেছিল, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আইবিএ (IBA)-র তরফে জানানো হয়েছে, এই যোজনাটিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই বাকি সমস্যার সমাধান করা হবে।

কেন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হলো ধর্মঘট?

মূলত ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন দিন ধর্মঘট চলার কথা ছিল। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর হলো ব্যাঙ্কগুলির অর্ধবার্ষিক সমাপ্তি বা ‘হাফ-ইয়ার ক্লোজিং’-এর দিন। এই বিশেষ দিনে হিসাবের গরমিল মেলানো, ব্যালেন্স ঠিক করা, কোষাগার ও বাজার সংক্রান্ত নানান গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হয় ব্যাঙ্কগুলিকে।

যদি এই তিন দিন ধর্মঘট হতো, তবে তার আগে শনিবার ও রবিবার মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের প্রবল অসুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের আর্জি মেনেই শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *