মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারি চেয়ে ফুঁসে উঠল দেশ! কোন বড় অভিযোগে উত্তাল রাজধানী?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপ্রণালী এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নীতি নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে অন্যান্য কমিশনারদের আপত্তি ও মতামতকে উপেক্ষা করে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিজের ইচ্ছেমতো চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে কংগ্রেস। সিইসির পদত্যাগ এবং তাঁর অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে দিল্লি, জয়পুর, ভোপাল ও লখনউসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস কর্মীরা।

দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ করে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হচ্ছে না। প্রতিবাদ আন্দোলন চলাকালীন দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে।

  • রাজধানীতে তুলকালাম: দিল্লির রাজপথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যুব কংগ্রেস কর্মীরা তীব্র বিক্ষোভে অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে তাঁরা অবিলম্বে সিইসির অপসারণ দাবি করেন।

  • ভোপালে সংঘর্ষ: মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদী কংগ্রেস কর্মী ও পুলিশের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।

  • অন্যান্য রাজ্য: দিল্লি ও ভোপালের পাশাপাশি জয়পুর, লখনউ এবং পাটনার মতো শহরগুলিতেও হাজার হাজার কংগ্রেস কর্মী পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হন।

ফর্ম ৬ এবং এসআইআর নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভের কারণ মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম। কংগ্রেসের অভিযোগ, ‘ফর্ম ৬’ এবং ‘এসআইআর’ (SIR)-এর মতো প্রক্রিয়াগুলিকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী শিবিরের জোরালো দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার অসৎ উদ্দেশ্যেই এই পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।

নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে এমন সরাসরি অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের এই দেশব্যাপী আন্দোলন আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *