“ট্রাফিক চালান না দিলে কেটে যেতে পারে ঘরের বিদ্যুৎ!”-বকেয়া আদায়ে সুপ্রিম কোর্টের মহা-পরামর্শ

রাস্তায় গাড়ি বা বাইক নিয়ে বেরোলে ট্রাফিক নিয়ম ভাঙলে পুলিশের ই-চালান এখন খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু সেই জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বহু মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়। মাসের পর মাস চালান বাকি পড়ে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া জরিমানা আদায় করতে এ বার একটি অভিনব পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, শুধু ই-চালান পাঠিয়ে দিলেই কাজ শেষ হয় না, টাকা আদায়ের জন্য কঠোর ও বাস্তবসম্মত পথ খুঁজতে হবে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা জানান, ট্রাফিক চালান না মেটালে সেই বকেয়া টাকা সরাসরি বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে মানুষ তখন নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে বাধ্য হবে। এই ধরনের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে মনে রাখতে হবে, এটি আদালতের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ বা রায় নয়। বিচারপতির তরফে এটি শুধুমাত্র একটি প্রস্তাব হিসেবে উঠে এসেছে।

কত টাকার চালান বকেয়া রয়েছে?

আদালতে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ই-চালানের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে আদায় করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিচারপতি পারদিওয়ালা স্পষ্টতই জানান, পুলিশ প্রশাসন হাজার হাজার বা লাখ লাখ ই-চালান কাটতেই পারে, কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ হলো সেই জরিমানার অর্থ বাস্তবে কোষাগারে আসছে কি না।

আরও কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব

শুধু বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে সংযোগের কথাই নয়, বকেয়া জরিমানা আদায়ের জন্য আরও কয়েকটি কড়া পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আদালতে। তার মধ্যে রয়েছে:

  • যে সমস্ত গাড়ির জরিমানা বকেয়া রয়েছে, সেই গাড়িগুলির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি পুনর্নবীকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা।

  • এমন যানবাহনের ডুপ্লিকেট আরসি ইস্যু না করা এবং মালিকানা বদলের ক্ষেত্রেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

  • বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট আটকে রাখা।

  • পরিবহন দফতরের সরকারি পরিবাহন পোর্টালে এই ধরনের গাড়িগুলিকে চিহ্নিত করে ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করা।

আপাতত এই সমস্ত বিষয়গুলি প্রস্তাবের পর্যায়েই রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে এখনই এই সংক্রান্ত কোনো নতুন নিয়ম বা আইন কার্যকর হয়ে গেছে। তবে বকেয়া জরিমানা তুলতে শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ যে আগামী দিনে বড় কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *