ভারতের জলাধারে জলের স্তর নেমে গেল ১০ বছরের সর্বনিম্নে, খরার মুখে বাংলার কী পরিস্থিতি?

রাজনীতির অন্তহীন কোলাহল ও প্রচারের ভিড়ে দেশের এক ভয়াবহ বাস্তব ধীরে ধীরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। দেশের অন্য সব সংকটকে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় অশনি সঙ্কেত হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জলসংকট। কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান জলাধারগুলির জলস্তর গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। আসন্ন শুষ্ক মাসগুলিতে যা এক বিশাল বিপদের ঘণ্টা বাজাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশের ১৭৮টি গুরুত্বপূর্ণ জলাধারে মোট জলসঞ্চয়ের পরিমাণ তাদের সম্মিলিত ধারণক্ষমতার মাত্র ৭০ শতাংশ। অথচ গত ১০ বছরের গড়ের হিসাবে এই হার থাকার কথা ছিল ৭৬.৬২ শতাংশ। এমনকি গত বছর এই একই সময়ে জলাধারগুলিতে জল ছিল প্রায় ৭৯ শতাংশ। এরই মধ্যে বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ফলে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ হওয়ার কোনো আশু সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।
পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক দক্ষিণ ভারতে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে জলাধারগুলির অবস্থা শোচনীয়। এই অঞ্চলের জলাধারগুলিতে বর্তমানে তাদের মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ জল রয়েছে, যার পরিমাণ ২৭.৯২৬ বিলিয়ন ঘনমিটার। গত বছর ঠিক এই সময়ে সেখানে জলের পরিমাণ ছিল ৮৭.২৫ শতাংশ। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের মতো রাজ্যে ইতিমধ্যেই খরা ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী দিনে সেচ কাজ, পানীয় জল সরবরাহ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের চিত্রটাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। পূর্ব ভারতের জলাধারগুলিতে বর্তমানে ৭৩ শতাংশ জল রয়েছে। তবে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও, এই অঞ্চলের একাধিক রাজ্যে বর্ষার বৃষ্টিপাতে প্রায় ২৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বর্ষাকাল অফিসিয়ালি শেষ হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে জলাধারগুলিতে গড়ের তুলনায় কম জল জমার এই পরিসংখ্যান আসন্ন দিনগুলিতে তীব্র পানীয় জলের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় অংশ যে বর্ষার ওপর নির্ভরশীল, তা ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এখন দেশের ভবিষ্যৎ জল নিরাপত্তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।