জিতলে চুপ, হারলেই নির্বাচন কমিশনের দোষ! লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে একহাত নিলেন নিতিন নবীন

ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর লাগাতার আক্রমণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির মহিলা মোর্চার এক সেবা সংকল্প অভিযান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসাও করেন বিজেপি সভাপতি।

‘হার হজম করতে পারছে না বিরোধীরা’ এদিনের সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিতিন নবীন বলেন, বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক হার ও হতাশার জেরে চরম অধৈর্য হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস হোক বা তৃণমূল— তারা কখনোই নিজেদের পরাজয় সহজে হজম করতে পারে না। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যখন বিরোধীরা তামিলনাড়ু বা কেরলে নির্বাচনে জয়লাভ করে, তখন তাদের নির্বাচন কমিশনের কথা মনে পড়ে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, অসম বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে বিজেপি জিতলেই তাদের রাগ গিয়ে পড়ে নির্বাচন কমিশন ও ইভিএমে।

রাহুল গান্ধীকে হুঙ্কার বিজেপি সভাপতির কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়ে নিতিন নবীন বলেন, “রাহুল গান্ধীজি, পরাজয় থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন। হতাশা থেকে বেরিয়ে আসুন। এভাবে বারবার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশ্ন তুলে আসলে আপনি নিজের ভাবমূর্তিতেই দাগ ফেলছেন। দেশের জনতা ব্যালট বাক্সে যে রায় দিয়েছে, সেই ভোটের চোটেই আপনাদের ব্যথা হচ্ছে। এই ব্যথার উপলব্ধি থেকে নতুন কিছু শিখুন, না হলে আগামী দিনে জনতা আপনাকে আরও বড় চোট দিতে থাকবে।”

পানিহাটির সভা ও রাজ্য সরকারের প্রশংসা এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। অনুষ্ঠানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও তাঁদের শিশুদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেন নিতিন নবীন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে হেঁটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে প্রতিটি সরকারি প্রকল্প মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অনুষ্ঠানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, আইসিডিএস কেন্দ্রের শিশুদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ানো এবং তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত যোজনার আওতায় আনার মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *