সিংহাসন নিয়ে দড়ি টানাটানি, রাজপরিবারের দ্বন্দ্ব পেরিয়ে খবরের স্টুডিও থেকে সোজা রাজা হলেন সাংবাদিক!

‘আজ যে রাজা, কাল সে ভিখারি’— অনিশ্চিত জীবনকে ব্যাখ্যা করতে এই প্রবাদের চল বহুদিনের। কিন্তু এর উল্টো ঘটনাও ঘটে পৃথিবীতে! ভিখারি থেকে রাজা নয়, বরং সামান্য মাইনের এক সাংবাদিক খবরের স্টুডিও ছেড়ে সোজা পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একটি ঐতিহাসিক রাজ্যের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন। আর এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটিই এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।

রাজপরিবারের দ্বন্দ্ব ও নাটকীয় পটপরিবর্তন

উগান্ডার অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক রাজতন্ত্র হলো ‘টোরো’। মাসখানেক আগে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান টোরোর রাজা চতুর্থ ওয়ো নম্বা কাবামা ইগুরু রুকিডি। তাঁর মৃত্যুর পরই রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে রাজপরিবারের অন্দরে শুরু হয় তীব্র দড়ি টানাটানি ও দ্বন্দ্ব। প্রয়াত রাজার মা বেস্ত কেমিগিসা এবং বোন রাজকুমারী রুথ কোমুনতাল দাবি করেন, রাজার একটি গোপন সন্তান রয়েছে এবং উইলে তারই নাম রয়েছে। কিন্তু রাজপরিবারের রয়্যাল বাবিতো ক্ল্যানের ২১ সদস্যের কমিটি এই দাবিতে সন্দেহ প্রকাশ করে জানায়, রাজার জীবিতকালে এমন কোনো সন্তানের কথা কেউ জানত না।

সব জল্পনা ও বিরোধিতার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজপরিবারের এই কমিটি ৫৬ বছর বয়সি সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিডি কিয়াজোঙ্গামার নামেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়। সম্পর্কে তিনি প্রয়াত রাজার তুতো দাদা। টোরোর রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসার পর তিনি ‘প্রথম এডওয়ার্ড রুকিডি নিয়াবোঙ্গো’ নাম ধারণ করেন।

সাদামাটা জীবন থেকে রাজমুকুট

রাজপরিবারে জন্ম হলেও এডওয়ার্ডের শৈশব বা জীবন রাজকীয় ছিল না। তিনি বড় হয়েছেন এক সাধারণ গ্রাম কিডুকুরুতে। উচ্চশিক্ষার জন্য গ্রামের বাড়ি ছেড়ে উগান্ডার মাকেরিরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উগান্ডা ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (Uganda Broadcasting Corporation) চ্যানেলে সাংবাদিকতা ও নিউজ অ্যাঙ্করিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সহকর্মীদের কাছে তিনি বরাবরই এক ‘বিনয়ী’ ও ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে পরিচিত।

উগান্ডা একটি সংবিধানচালিত প্রজাতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় সেখানে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হাতেই দেশ পরিচালনার মূল ক্ষমতা ন্যস্ত। তবে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে দেশটির রাজতন্ত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতার কেরিয়ারে মানুষের সঙ্গে যে যোগাযোগের সেতু তৈরি হয়েছে, তা তিনি এবার সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া পূরণে পুরোপুরি কাজে লাগাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *